নিজস্ব প্রতিনিধি
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক শাহ আরেফিন টিলা এখন কেবলই স্মৃতি। স্থানীয়ভাবে ‘শারপিন টিলা’ নামে পরিচিত এই প্রাকৃতিক ও আধ্যাত্মিক নিদর্শনটি পাথরখেকো চক্রের গ্রাসে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র টিলাটি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর অন্যতম সঙ্গী দরবেশ শাহ আরেফিনের স্মৃতিবিজড়িত এই টিলাটি যুগ যুগ ধরে স্থানীয়দের কাছে পবিত্র ও শ্রদ্ধার স্থান হিসেবে বিবেচিত ছিল। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা অবৈধ পাথর উত্তোলনের মহোৎসবের চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল সম্প্রতি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশিষ্টজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, আধ্যাত্মিক মহিমা বা প্রকৃতির ভারসাম্য—কোনো কিছুই এই ‘পাথরখেকো’দের ক্ষুধার হাত থেকে রেহাই পায়নি।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাইফুর রহমান তপন। তিনি তার পোস্টে আক্ষেপ করে লিখেছেন, “দরবেশ শাহ আরেফিনের ভয়ও ওই পাথরখেকোদের ঠেকাতে পারেনি। তিনিও কি ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ ছিলেন যে ৩২ নম্বরের মতো তাঁর আবাসস্থল টিলাটাও গুড়িয়ে দেওয়া হলো? আসলে ক্ষুধা, ১৭ বছরের ক্ষুধা। কবে মিটবে এ ক্ষুধা কেউ জানে না।”
তিনি কবি রফিক আজাদের কবিতার প্রসঙ্গ টেনে আরও উল্লেখ করেন যে, ভাতের অভাবে মানুষের হাহাকার বোঝা যায়। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষের এই সর্বগ্রাসী লোভ দেশটাকেই হুমকির মুখে ফেলছে।
দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিলাটি রক্ষায় নানা নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। টিলাটি কেটে ফেলার ফলে শুধু ভূ-প্রকৃতির ক্ষতি হয়নি, বরং ওই অঞ্চলের বাস্তুসংস্থানও নষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক ডামাডোলের সুযোগে পাহাড় কাটার এই উৎসব জনমনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, শাহ আরেফিন টিলার এই পরিণতি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাটের এক নিকৃষ্টতম উদাহরণ। অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
