নিজস্ব প্রতিনিধি
সদ্য সমাপ্ত স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্টানে নেতাকর্মীদের হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “আগামীকাল পল্টনে যাবো, ওখানে দেখা যাবে।” নেতার সেই ডাক শুনে কর্মীরা আশা নিয়ে এয়েছিল নয়াপল্টন। কিন্তু সেই নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে যখন জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাল, তখন মুহূর্তেই ভোল বদলে ফেললেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই অবস্থান পরিবর্তনকে নেটিজেনরা জনপ্রিয় সিনেমা ‘আয়নাবাজি’র বহুরূপী চরিত্রের সাথে তুলনা করছেন। অনেকেই বলছেন, একই অঙ্গে এতো রূপ ধারণ করে তিনি অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীকেও ছাড়িয়ে গেছেন।
গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের আগমনের খবরে শত শত নেতাকর্মী জড়ো হন। এক পর্যায়ে ভিড় সামলাতে না পেরে কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে রাখলে পল্টন এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিড়ের কারণে মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আটকা পড়ে ছিল দীর্ঘক্ষণ। নেতাকর্মীদের এমন ‘লাগামহীন’ আচরণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারেক রহমান মাইক হাতে তুলে নেন এবং নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধের সুরে বলেন, “আপনারা এভাবে রাস্তা বন্ধ করে রাখলে মানুষ চলাচল করবে কী করে? আমি নিয়মিত দাপ্তরিক কাজে এখানে আসবো, এটা স্বাভাবিক কাজ। এভাবে যানজট তৈরি করে মানুষের কষ্ট দিয়েন না।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাস্তা বন্ধ রাখলে তিনি আর অফিসেই আসবেন না।
তারেক রহমানের ডি-টার্ন নেওয়া এই বক্তব্যকে অনেকেই ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, যিনি নিজেই “পল্টনে দেখা যাবে” বলে নেতাকর্মীদের উসকে দিয়েছিলেন, তিনিই আবার জনসমাগম দেখে বিরক্তি প্রকাশ করছেন কেন? নেটিজেনদের মতে, এটি রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।
ফেসবুকে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, তারেক রহমান যেন রাজনীতির মাঠে ‘আয়নাবাজি’র চঞ্চল চৌধুরি। একদিকে শো-ডাউন করার জন্য কর্মীদের ডাক দিচ্ছেন, অন্যদিকে জনদুর্ভোগের দায় এড়াতে সাধু সাজার চেষ্টা করছেন। একই কক্ষে বা একই মঞ্চে তার এই ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদল সাধারণ মানুষের কাছে হাস্যরসের খোরাক জোগাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সুশৃঙ্খল ভাবমূর্তি বজায় রাখার এই দ্বিমুখী চেষ্টা হিতে বিপরীত হতে পারে। জনদুর্ভোগ সৃষ্টির দায়ভার শেষ পর্যন্ত দলের প্রধান হিসেবে তারই কাঁধে বর্তায়।
