নিজস্ব প্রতিনিধি : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অক্সিজেন মাস্ক খুলে মুমূর্ষু এক শিশুকে বেসরকারি ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেওয়ার পথে শিশুটির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত এনায়েত করিম নামের এক সরকারি কর্মচারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে নিহতের পরিবার। ।
নিহত শিশুর নাম হাসিব আহমেদ মিনহাজ (৭)। তার পরিবার জানায়, দীর্ঘ অসুস্থতা নিয়ে রংপুর থেকে ঢাকায় এসে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে বিকেলে তারা ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে শয্যা দেখতে পাঠালে অভিযুক্ত এনায়েত করিম তাদের সাহায্য করার ছলে এগিয়ে আসে। ।
পরিবারের অভিযোগ, এনায়েত নিজেকে হাসপাতালের প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে জানায় যে ভেতরে কোনো শয্যা খালি নেই। এরপর সে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাটাবন এলাকার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। চিকিৎসকদের কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সে শিশুটির অক্সিজেন মাস্ক খুলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। ।
মৃত শিশুর বাবা হেলাল মিয়া বিলাপ করে বলেন, ডাক্তাররা আমাদের আগেই বলেছিলেন যেন দুই মিনিটের জন্যও অক্সিজেন খোলা না হয়। ওই দালালকে আমরা বারবার বললেও সে শোনেনি। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার জন্য প্রায় আধা ঘণ্টা শিশুকে অক্সিজেন ছাড়া ঘুরানোর ফলে গেটে পৌঁছানোর আগেই শিশুটি নিথর হয়ে যায়। ।
শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে এনায়েত পালানোর চেষ্টা করলে উপস্থিত জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। অভিযুক্ত এনায়েত ঢামেক হাসপাতালেরই সাময়িক বরখাস্ত হওয়া একজন অফিস সহকারী বলে নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ।
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনমথ হালদার জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে সাত বছর বয়সী মিনহাজের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।
