নিজস্ব প্রতিনিধি :
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলো এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। ন্যায়বিচারের আশায় করা এসব মামলার একটি বড় অংশকে ব্যক্তিগত প্রতিশোধ, আর্থিক সুবিধা আদায় এবং প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে যে, পরকীয়া, জমি নিয়ে বিরোধ, এমনকি ডিভোর্সের জেরেও জুলাইয়ের আন্দোলনের দোহাই দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ।
পিবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯৫টি মামলার তদন্তভার তাদের হাতে আসে। এর মধ্যে ২৪টি মামলার কোনো সত্যতা মেলেনি এবং ২০টি মামলা বাদীপক্ষ নিজেই প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে বা সড়ক দুর্ঘটনাকে আন্দোলনের গুলি হিসেবে চালিয়ে দিয়ে মামলা করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, তদন্তাধীন মামলাগুলোর মধ্যে প্রায় ৬৩.৬৩ শতাংশ আসামির বিরুদ্ধে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ।
চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনার মধ্যে রয়েছে শ্রীপুরের একটি মামলা, যেখানে এক পিতা তার পরকীয়াজনিত কারণে খুন হওয়া ছেলেকে আন্দোলনের শহীদ দাবি করে মামলা করেছিলেন। পরে সত্য উদ্ঘাটনের মুখে তিনি মামলাটি প্রত্যাহার করেন। উত্তরা ও মোহাম্মদপুরে এমন কিছু মামলার হদিস মিলেছে যেখানে মৃত দাবি করা ব্যক্তি আসলে জীবিত, কিংবা মামলার আসামিরা জীবনে কোনোদিন রাজধানী ঢাকাতেই আসেননি। এমনকি এক পিতা তার সাবেক স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফাঁসাতে নিজের নাবালক ছেলেকে দিয়ে জুলাইয়ের মিথ্যা মামলা করিয়েছেন। ।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া সব মামলার তালিকা চেয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করতে দায়ের করা মামলাগুলো গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বাইরে অন্যদের নিষ্কৃতি দেওয়ার সুপারিশ করা হবে। পিবিআই জানিয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে তারা প্রতিটি মামলা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করছে।
