রাজধানীর অপরাধ জগৎ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে. কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত তিন মাসে ঢাকায় অর্ধশতাধিক খুন, গুলিবর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে. এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জিসান, ইমন, পিচ্চি হেলালসহ অন্তত ১০ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম উঠে এসেছে. পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ১১০ জন সন্ত্রাসীর তালিকা তৈরি করেছে এবং চলতি মাসেই বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে.
ঢাকার খিলগাঁও, গোড়ান ও মতিঝিল এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অনুসারীদের দৌরাত্ম্য চরমে পৌঁছেছে. সম্প্রতি খিলগাঁওয়ের এক আবাসন ব্যবসায়ীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দেওয়ায় প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা. একই এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছেও নিয়মিত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে; টাকা না দিলে তার কেটে দেওয়া এবং রক্তাক্ত ছবি পাঠিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে. অভিযোগ রয়েছে, জিসানের সেকেন্ড ইন কমান্ড শুটার তারিফের নেতৃত্বে এই চক্রটি পরিচালিত হচ্ছে.
রাজধানীর হাসপাতাল পাড়া হিসেবে পরিচিত মহাখালীতেও টেন্ডার দখল নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে. ক্যান্সার, বক্ষব্যাধি ও গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালকে ঘিরে বছরে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকার টেন্ডার কার্যক্রম চলে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে মরিয়া আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা. সম্প্রতি টেন্ডার সংক্রান্ত বিরোধে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ডা. আহমেদ হোসেন এবং জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের দুই কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে. আতঙ্কে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও জানা গেছে. চিকিৎসকরা নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালগুলোতে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন.
মিরপুর এলাকায় ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ নামে একটি চক্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে. গত ১৮ এপ্রিল মিরপুর-১৩ এর একটি তৈরি পোশাক কারখানায় ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা. এছাড়া রিকশার গ্যারেজ ও ব্যাটারির কারখানায় হামলা চালিয়ে ক্যাশ লুট ও মালামাল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে. অন্যদিকে মোহাম্মদপুর এলাকায় জামিনে মুক্ত পিচ্চি হেলালের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় জোড়া খুন ও হত্যাচেষ্টার মতো ঘটনা ঘটেছে.
ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের এই অস্থিরতার মধ্যে নঈম আহমেদ টিটন নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী সম্প্রতি নিহত হয়েছেন. এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ইমন ও পিচ্চি হেলালের অনুসারীদের মধ্যে পারস্পরিক দোষারোপ চলছে. ডিএমপি জানিয়েছে, বর্তমানে ওয়ারী বিভাগে ২৯ জন, মিরপুরে ২৪ জন এবং লালবাগে ১৭ জন সন্ত্রাসী সক্রিয় রয়েছে. পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুতই এই বিশেষ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম
সূত্রঃ সময় টিভি
