নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফাইড পেজ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া ওই পোস্টে সাম্প্রতিক একটি প্রচারণায় অসাবধানতাজনিত ভুলের কারণে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাওয়া হয়।
পোস্টে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংযুক্ত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও অ্যাক্টিভিস্টদের একটি বড় অংশ দলের কঠিন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের সহিংস ঘটনার পর অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরাই হতাশ ও দিশাহীন কর্মীদের সাহস, ভাষা ও শক্তি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তা স্বতঃস্ফূর্ত কোনো আন্দোলন ছিল না। বরং পরিকল্পিতভাবে সরকারি স্থাপনায় হামলা, সহিংসতা এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব ঘটনার মাধ্যমে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও পোস্টে বলা হয়েছে।
এছাড়া সেখানে বলা হয়, ওই সময় স্নাইপার হামলা, টার্গেটেড কিলিং, থানায় হামলা এবং জেলখানায় আক্রমণ করে চিহ্নিত জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। যেটা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করা হয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, কিছু ব্যক্তিকে অতীতে ‘অবুঝ শিশু’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও পরে তাদের জঙ্গিবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, ‘বিকল্প’ রাজনীতির স্লোগান তুলে ক্ষমতা এমন কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামী লীগের ওই পোস্টে বলা হয়, জুলাইয়ের সহিংস ঘটনাগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি “কালো অধ্যায়” এবং এসব ঘটনাকে আন্দোলন বা অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যায়িত করার সুযোগ নেই বলে তারা মনে করে।
পোস্টের শেষাংশে আবারও দলীয় কর্মী-সমর্থক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয় এবং তাদের খোলামেলা সমালোচনার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের আদর্শ ও চেতনা ধরে রাখতে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সতর্ক ভূমিকার প্রশংসাও করা হয়।
এদিকে পোস্টে তৃণমূল পর্যায়ের খবর, মতামত বা লেখা পাঠানোর জন্য দলীয় পেজের ইনবক্স বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। পোস্টটি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে শেষ করা হয়।
