নিজস্ব প্রতিবেদক: কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরদিনই রাজধানীর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর সড়কে গিয়ে সশরীরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ঢাকার বুকে গিয়ে কোনো শীর্ষ সারির নেতার এটাই প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক বছরেরও বেশি সময় পর জামিনে মুক্তি পান এই জনপ্রতিনিধি। ১২টি সুনির্দিষ্ট মামলায় উচ্চ আদালত থেকে চূড়ান্ত জামিন লাভের ২৪ ঘণ্টার মাথায় তিনি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত বাসভবনে ছুটে যান।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ক্ষতিগ্রস্ত ও পুড়িয়ে দেওয়া ঐতিহাসিক ভবনটি ঘুরে দেখার সময় সাবেক এই মেয়র আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সামনে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভবন প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে সাবেক এই মেয়র স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর কেবল একটি কাঠামো নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও ইতিহাসের ঠিকানা। ইটের দেয়াল গুঁড়িয়ে বা আগুন দিয়ে বাঙালির হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক এই স্থানটি ধ্বংস করলেই দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী একটি রাজনৈতিক দলকে কখনো শেষ করে দেওয়া যাবে না। এই বাড়ি থেকেই একসময় অবরুদ্ধ থেকে দেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কারামুক্তির পরপরই সাবেক মেয়রের এমন প্রকাশ্য অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে তিনি কেবল আইনি লড়াইয়েই নয়, আদর্শিক মাঠেও ফ্রন্টলাইনে থাকার ইঙ্গিত দিলেন।
ইতিমধ্যেই এই নেত্রীর আইনজীবীর পক্ষ থেকে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাঁর অংশ নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে ঢাকার এই আকস্মিক সফরকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জসহ দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
