নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন দলীয় দুঃসময় এবং দেশজুড়ে চলমান চরম টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড় নেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এখন কেবলই সময়ের অপেক্ষা মাত্র বলে জানা গেছে।
দলীয় শীর্ষ পর্যায় এবং তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনার স্বদেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ও কৌশলগত সব ধরনের আইনি ও লজিস্টিক প্রস্তুতি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঘিরে দলীয় পর্যায়ে অত্যন্ত কঠোর গোপনীয়তায় সাংগঠনিক প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা এখন একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, বর্তমান ২০২৬ সালের জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেখ হাসিনার সরাসরি মাঠে উপস্থিতি শুধু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের জন্যই নয়, সামগ্রিকভাবে দেশের আগামী দিনের গতিপথ নির্ধারণেও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক টার্নিং পয়েন্ট হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার এই আসন্ন প্রত্যাবর্তন কোনো ক্ষমতার মোহ থেকে নয়, বরং দলের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন ক্রান্তিলগ্নে নেতৃত্বের হাল নিজের কাঁধে নেওয়ার এক সাহসী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
অতীতে সুদীর্ঘ সময় ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে থেকেও তিনি ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণে কখনোই আগ্রহী ছিলেন না—এই যুক্তি তুলে ধরে দলটির সিনিয়র নেতারা বলছেন, আজকের এই কঠিন সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রত্যাবর্তন করার সিদ্ধান্তও তাঁর পূর্বের ত্যাগের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে যে, স্বদেশে পা রাখার পরপরই শেখ হাসিনা কোনো বিলম্ব ছাড়াই সরাসরি দলটির সাংগঠনিক ও পুনর্গঠনমূলক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন। দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশেষ ও জরুরি বৈঠক, ভেঙে পড়া দল পুনর্গঠন, বিগত সময়ে নেতাকর্মীদের ওপর চলা দমন-পীড়নের চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামের রূপরেখা নির্ধারণই হবে তাঁর মূল কর্মসূচি।
এদিকে, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার এই হঠাৎ দেশে ফেরা বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত বড় ও জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে। যেখানে অন্তর্বর্তী আমলের বিগত সরকার এবং বর্তমান প্রশাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বৈধতা, অংশগ্রহণ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন ও বিতর্ক দিন দিন বাড়ছে—সেখানে আওয়ামী লীগের প্রধান নেত্রীর সরাসরি রাজপথে ফেরা দেশের সামগ্রিক ক্ষমতার সমীকরণকে মুহূর্তের মধ্যে ওলটপালট করে দিতে পারে।
একজন সিনিয়র রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভাষায়, “শেখ হাসিনার এই প্রত্যাবর্তন মানে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা নয়, এটি মূলত বাংলাদেশের একটি বিশাল ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক শক্তির পুনঃসংগঠন এবং মাঠপর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর এক স্পষ্ট ও শক্তিশালী বার্তা।”
এই বিশেষ খবর চাউর হওয়ার পর দেশজুড়ে আত্মগোপনে থাকা এবং কোণঠাসা হয়ে পড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব প্রত্যাশা, মানসিক শক্তি ও তীব্র উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলছেন, তীব্র দমন-পীড়ন, হাজার হাজার মামলা ও নির্বিচার গ্রেপ্তারের মধ্যেও বুক চিতিয়ে দলের পাশে দাঁড়ানোর আসল সাহস ও প্রেরণা আসবে শেখ হাসিনার সরাসরি উপস্থিতি থেকে।
সব মিলিয়ে, স্বদেশে ফেরার যাবতীয় প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন হওয়ায় এখন শুধু সময়ের সমীকরণে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা মাত্র। রাজনীতির মূল মঞ্চে শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন যে দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেগা আলোড়ন ও ঝড়ের সৃষ্টি করবে, তা বলাই বাহুল্য। শেখ হাসিনার স্বদেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ, আন্তর্জাতিক মহলের অবস্থান এবং এই খবর নিয়ে বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
