নিজস্ব প্রতিনিধি :কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার নাটক সাজানোর এক দিন পর লাকসামে উদ্ধার হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে (২৮) বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। তবে ছাত্রশিবির জানিয়েছে, ‘প্রেমের সম্পর্কে’ জড়ানোর অপরাধে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। আজ দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় নিখোঁজের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়নি। তবে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, জিসানকে উদ্ধার করার পর থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত ছাত্রশিবির বা তাঁর পরিবারের কাউকে তাঁর সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়নি প্রশাসন। জিসান বর্তমানে পুলিশের জিম্মায় থাকায় অপহরণ বা নিখোঁজ সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া দ্বিতীয় কোনো নির্ভরযোগ্য সোর্স সংগঠনের কাছে নেই। এর আগে গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে অচেতন অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে তাঁর পরিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তদন্তে নেমে জানতে পারে, ফেসবুকের মাধ্যমে ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের জেরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাঁকে ভ্রূণ নষ্ট করার চাপ দেন এবং একপর্যায়ে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়।
পরবর্তীতে ওই তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দিলেও মূলত বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে গিয়ে তিনি পরিবারের মাধ্যমে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে জিডি করান বলে পুলিশের দাবি। জিসান উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর গতকাল রাতেই ওই ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেল) খলিলুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। এক নারীকে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রূণ নষ্টসহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার হওয়া জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
