নিজস্ব প্রতিনিধি: চব্বিশের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নানা আইনি ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও, তা উপেক্ষা করেই রাজপথে আকস্মিক শো-ডাউন দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গত ২৪ ঘণ্টায় সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে সক্রিয় অবস্থান নিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বা একদিনের ব্যবধানে সারাদেশের অন্তত অর্ধশতাধিক স্থানে ঝটিকা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল সম্পন্ন করেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ ও নতুন সরকারের কঠোর অবস্থানের মাঝেই ছাত্রলীগের এই হঠাৎ রাজপথে ফেরা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় গোপন নির্দেশনার পর থেকেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও থানা শাখা কমিটির নেতাকর্মীরা গভীর রাতে কিংবা ভোরের আলো ফোটার আগে রাজপথে নেমে আসেন। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং নানা বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে এই ঝটিকা মিছিলগুলো বের করেন। মিছিলগুলো থেকে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং সংগঠনের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের পক্ষে তীব্র স্লোগান দেওয়া হয়। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটসহ দেশের বড় বড় বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এবং অলিগলিতে ছাত্রলীগের এই শো-ডাউন লক্ষ্য করা গেছে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পর্ষদের একাধিক সাবেক ও আত্মগোপনে থাকা নেতা জানান, কোনো অন্যায় নিষেধাজ্ঞা বা আইনি বেড়াজাল দিয়ে ছাত্রলীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুশৃঙ্খল সংগঠনকে ঘরে বন্দি করে রাখা যাবে না। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং সংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছেন।
তাঁদের দাবি, একদিনে অর্ধশতাধিক স্থানে এই সফল মিছিল প্রমাণ করে যে, তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রলীগ এখনো কতটা শক্তিশালী, অভ্যন্তরীণভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং ঐক্যবদ্ধ। আগামী দিনগুলোতে নতুন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও বেগবান করতে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে নেতাকর্মীরা রাজপথে একইভাবে সক্রিয় থাকবেন বলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে ছাত্রলীগের এই হঠাৎ তৎপরতা রুখতে এবং যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
