নিজস্ব প্রতিনিধি :একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকদের ‘গর্ধব’ আখ্যা দেওয়া এবং নিজের মেধা নিয়ে চরম দাম্ভিকতা প্রকাশ করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র তোলপাড় ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা সারোয়ার তুষার। সম্প্রতি ওই টকশোতে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেন, “ঢাকা ইউনিভার্সিটির গর্ধব টিচারগুলোকে আমি পড়াতে পারবো।” নিজের জ্ঞান ও পড়াশোনার পরিধি জাহির করতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, তিনি এত বেশি পড়াশোনা করেন যে চাইলে একশো পিএইচডি করা ছেলেকেও অনায়াসে পড়াতে পারবেন।
তাঁর এই মন্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সচেতন নাগরিক সমাজ, ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষানুরাগীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কারের ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ এই নেতার অতীত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন, যেখানে জানা গেছে যে অত্যন্ত দাম্ভিকতা দেখানো এই রাজনৈতিক নেতার নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা কেবল উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস এবং তাঁর स्नातक বা উচ্চশিক্ষা এখনো সম্পন্নই হয়নি। একজন এইচএসসি পাস রাজনৈতিক কর্মীর মুখে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষকদের নিয়ে এমন অবমাননাকর মন্তব্যকে চরম ধৃষ্টতা ও সস্তা প্রচারণার কৌশল বলে মনে করছেন নেটিজেনরা।
এই তীব্র বিতর্কের মধ্যেই সারোয়ার তুষারের পুরোনো এক মেগা কেলেঙ্কারি ও নৈতিক স্খলনের ঘটনা আবারও সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুলভাবে ভাইরাল হতে শুরু করেছে। এর আগে এনসিপির তৎকালীন নেত্রী নীলা ইসরাফিলের সাথে সারোয়ার তুষারের একটি অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন ফোনালাপের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়েছিল। ওই ভাইরাল কল রেকর্ডে তুষারকে অত্যন্ত নগ্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে শোনা যায়, যেখানে তিনি ওই নারীনেত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “তুমি কি আমাকে লাগতে দিবে?” একজন উদীয়মান রাজনৈতিক নেতার মুখ থেকে এমন কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন প্রস্তাবের অডিও ক্লিপটি সে সময় দেশজুড়ে তুমুল আলোড়ন ও নিন্দার জন্ম দিয়েছিল।
এই ঘটনার জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে তাঁর নিজের দল এনসিপি গত ১৭ জুন নৈতিক স্খলনজনিত গুরুতর অভিযোগে সারোয়ার তুষারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করে এবং তাঁকে সব ধরনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার বা বিরত রাখে। তবে পরবর্তীতে শৃঙ্খলা কমিটির কাছে তাঁর দেওয়া লিখিত জবাব ও দুই মাস সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পর, রাজনৈতিক স্বার্থে এনসিপি তাঁর ওপর থেকে শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করে দলটিতে পুনরায় পুনর্বহাল করে।
টকশোতে ঢাবির শিক্ষকদের নিয়ে করা এই সাম্প্রতিক তুচ্ছতাচ্ছিল্যের পর সারোয়ার তুষারের সেই পুরোনো কল রেকর্ড এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ট্রল, মিম ও সমালোচনার মেগা সুনামি বইছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, যে নেতার নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নৈতিকতার ভিত্তি এত নড়বড়ে, তাঁর মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গর্ধব বলা কিংবা ১০০ পিএইচডি হোল্ডারকে পড়ানোর বড়াই করা আক্ষরিক অর্থেই হাস্যকর ও মানসিক দেউলিয়াত্বের লক্ষণ।
বিশ্লেষকদের মতে, টকশো বা গণমাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য কিংবা নিজেকে বড় তাত্ত্বিক প্রমাণ করার হীন উদ্দেশ্যে এ ধরনের আক্রমণাত্মক ও কুরুচিপূর্ণ শব্দ চয়ন রাজনীতিতে এক ধরণের নেতিবাচক সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে, যা দেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতাকে ভুল পথে চালিত করতে পারে। এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষারের এই বিতর্কিত বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া, এনসিপির ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সোশাল মিডিয়ার সামগ্রিক জনমত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
