নিজস্ব প্রতিনিধি :কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়াকে কেউ অপহরণ করেনি, বরং বিয়ের প্রলোভনে এক নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে ‘আমির থেকে সমর্থক, সব শালারা ধর্ষক’ এবং ‘বাহ শিবির চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’ ইত্যাদি তীব্র প্রতিবাদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। তবে এই প্রতিবাদী মিছিলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির ও সভাপতি রাকিবুল ইসলামকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।
এর আগে গত শুক্রবার কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসান মিয়াকে উদ্ধার করে জেলা পুলিশ। উদ্ধারের পর জিসান প্রাথমিক দাবি করেছিলেন যে তাকে একটি অজ্ঞাত গাড়িতে করে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করেছিল।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জিসানকে প্রকৃতপক্ষে কেউ অপহরণ করেনি, তিনি নিজেই সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আত্মগোপন করেছিলেন। অভিযুক্ত জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং তিনি পূর্বে কুমিল্লা (পশ্চিম) জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন।
পুলিশের আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২০ মে জিসান দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তার জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়।
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর ওই নারী জিসানকে বিয়ের জন্য অনবরত চাপ দিলে তিনি গত শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিয়ে না করার টালবাহানা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি গত বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে চলে যান।
পুরো ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে জিসান তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করান। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এই বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, “নিখোঁজ শিবির নেতাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার জেরে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।”
