নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিএনপির মহাসচিব ও নবগঠিত সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, সহনশীল ও উদারপন্থী রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। সব রাজনৈতিক দলকে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং জনগণের সামনে নিজস্ব বক্তব্য ও আদর্শ তুলে ধরার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো দমন-পীড়ন নয়, জনগণই স্বাধীনভাবে তাদের মধ্য থেকে যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেবে।’
গতকাল বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর নিজ এলাকায় এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণে আমি এবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছি। দল-মত-নির্বিশেষে এই এলাকার সব মানুষের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ঠাকুরগাঁও তথা এই অঞ্চল অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী একটি এলাকা। অধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং কৃষক-ছাত্র আন্দোলনের এক গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে এখানে। আমরা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরদের অবদানকে কখনো ভুলব না।’
বিগত শাসনামলের স্মৃতি চারণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মিথ্যা মামলা ও অন্যায়ের কারণে অনেকেই মাসের পর মাস ঘরে ঘুমাতে পারেননি। আমি সেই অন্ধকার সময়ের কথা ভুলিনি, কোনোদিন ভুলতেও পারি না। বিগত দিনে দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ নির্বিচারে লুটপাট করা হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আগের রাতেই ভোট ডাকাতি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এবারের নির্বাচনে কোনো কারচুপি হতে দেওয়া হয়নি। দেশের মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে, আমাদের নেতা তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছে। সে কারণেই জনগণ বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটে বিজয়ী করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশবাসী আমাদের ভোট দিয়ে জয়ী করায় এখন বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেড়ে গেছে। জনগণ আমাদের ওপর যে বিশ্বাস রেখেছে, তার মর্যাদা দিতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে সর্বোচ্চ সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মনে রাখবেন, মারামারি, বিশৃঙ্খলা কিংবা দমন-পীড়নের মাধ্যমে কখনো ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। যদি জোর করে টিকে থাকা সম্ভব হতো, তাহলে শেখ হাসিনা আজ ক্ষমতায় থাকতেন। ক্ষমতার অহংকার করা যাবে না। আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের অনেক স্থবির হয়ে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করতে পেরেছি। জনগণ বারবার বিএনপিকে ভোট দেয়, কারণ বিএনপি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে এবং কাজ করতে জানে।’
কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠের এই নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) অস্থায়ী কার্যালয়ের ফলক উন্মোচন ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
