নিজস্ব প্রতিবেদক
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় যৌথ অভিযানে ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য এসকে নাহিদ (২৬)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেফতারের পর থানা হেফাজতে তার ওপর ‘পুলিশি নির্যাতন’ চালানো হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার অন্তসত্ত্বা স্ত্রী। মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছ
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় রাণীনগর ও আত্রাই থানা পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত এসকে নাহিদ উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের এসকে হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে নাহিদ গ্রামের বাড়িতে আসেন। নাহিদের ছোট ভাই মারুফ জানান, সোমবার বিকেলে পারিবারিক প্রয়োজনীয় কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে রাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, পার্শ্ববর্তী আত্রাই থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
নাহিদের স্ত্রী আনিকা আক্তার স্বামীর ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ এনে বলেন, গতকাল আটকের সময় নাহিদের শরীরে কোনো আঘাতের দাগ ছিল না। আজ সকালে যখন থানায় দেখা করতে যাই, তখন নাহিদের হাতে, নাকে ও গলায় রক্ত দেখতে পাই। মারধর না করলে এই রক্ত কীভাবে আসলো? আমি অন্তসত্ত্বা ও অসুস্থ। আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল সে। অনেক অনুরোধ করেও পুলিশ তাকে ছাড়েনি।
নির্যাতনের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পুলিশ প্রশাসন। রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার দুপুরে নাহিদকে আত্রাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তাকে কোনো রকম মারধর বা নির্যাতন করা হয়নি। থানার বাইরে-ভেতরে এবং হাজতখানা সবখানেই সিসি ক্যামেরা আছে। তাছাড়া আদালতে আসামিদের জিজ্ঞেস করা হয় কোনো আঘাত বা টর্চার করা হয়েছে কিনা। তাই এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়।
অন্যদিকে, আত্রাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল রহমান জানান, এসকে নাহিদের বিরুদ্ধে আত্রাই থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আজ বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
