নিজস্ব প্রতিনিধি
যশোরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সহিংস ঘটনার ফলে স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে
সর্বশেষ ঘটনায় যশোর শহরের কোতোয়ালী মডেল থানার ধর্মতলা কদমতলা দাসপাড়া এলাকায় প্রতাপ দাস (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ওই এলাকার মৃত রামদাসের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৪ মার্চ) আনুমানিক দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে প্রতাপ দাসের নিজ বাড়িতে ঢুকে একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করে। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারিরা সংঘবদ্ধভাবে বাঁশ দিয়ে প্রতাপ দাসকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আহত প্রতাপ দাসকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যশোরে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তবে এসব ঘটনার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এর আগে গত ৮ মার্চ যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় চাঁদা না দেওয়ায় সোমা সাহা (৩৮) নামে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বনানী রোড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সোমা সাহা ওই এলাকার অখিল কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী। জানা যায়, তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারী কাঠের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের মতে, এসব ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন হামলা নয়; বরং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিরাপত্তা সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
