সিলেট প্রতিনিধি : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাহিদ ইসলাম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক এই তিন নেতা এক হলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের পতন ঘটবে বলে দাবি করেছেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সুসংগঠিত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সরকার ও প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কর্নেল অলি আহমদ বলেন, “আজকে যদি এই তিন জন নেতা একসাথে হয়ে যান, ডা. শফিকুর রহমান সাহেবের নেতৃত্বে আমাদের ছোট ছেলে নাহিদ এবং শায়খুল হাদিস মামুনুল হক সাহেব একসাথে মাঠে নামেন, তবে এক সপ্তাহের মধ্যে আপনাদের সরকারের পতন অনিবার্য। কারণ তারা মুহূর্তে ঢাকায় ২০ থেকে ৩০ লাখ মানুষের ঢল নামিয়ে টঙ্গী, সায়দাবাদ ও মিরপুরের পথ অবরুদ্ধ করে দিতে পারেন।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে কর্নেল অলি বলেন, “আপনি বেগম জিয়ার সন্তান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান। চাটুকার ও দালালদের কথা না শুনে নিজের বিবেক দিয়ে জনগণের কাঙ্ক্ষিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় বিএনপির প্রধানমন্ত্রী হবেন, পুরো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী একইসাথে দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন না। এই একটি বিষয় নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সাথে আলোচনা করুন।”
তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি, দলীয় লোকজন দুর্নীতিবাজদের পাহারা দিচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত না হলে অচিরেই ‘এক দফা এক দাবি, এই সরকার কবে যাবি’ স্লোগান তোলা ছাড়া উপায় থাকবে না।”
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
