ব্যবসা ও বিনিয়োগের নামে প্রায় ১৫০০ কর্মীর কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর চার জন স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অর্থ উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মাজলুম পরিবার’-এর ব্যানারে এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
অভিযুক্ত চার জামায়াত নেতা হলেন— কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট), রোকন আব্দুস সালাম সুজা (ফুলবাড়ী) এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম (ভোগডাঙ্গা)।
মানববন্ধনে মো. তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ ও মোসলেমা বেগমসহ ভুক্তভোগীরা জানান, ২০২০ সালে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন ওই নেতারা। এরপর জামায়াতের প্রায় ১৫০ জন সদস্যের কাছ থেকে উচ্চ মুনাফার আশ্বাস দিয়ে ১২ কোটি টাকা আমানত হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তারা লাভ্যাংশ দেওয়া তো দূরের কথা, মূলধন ফেরত না দিয়ে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে জেলা জামায়াতের আমিরের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করছে না বলে মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহজালাল সবুজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ব্যবসাটি মূলত রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত ছিল এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম (রাজারহাট) জানান, ছয়জন পরিচালক মিলে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন এবং দেনা পরিশোধে অন্যান্য পরিচালকরা সহযোগিতা করছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ৪০টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপন জানান, দলীয় তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে জামায়াত থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং শাহজালাল সবুজের রোকনিয়াত দুই মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা আদায়ে দলগতভাবে সব ধরণের আইনি ও নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
