নিজস্ব প্রতিবেদক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঐ শিক্ষার্থীর নাম আসাদুল আলম শেখ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি অনুষদের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল থেকে আসাদুলকে আটক করে আশুলিয়া থানা-পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আটকের আগে প্রক্টরিয়াল টিম, হল সংসদ ও জাকসুর নেতারা ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রক্টরিয়াল টিম আসাদুলের ব্যবহৃত মুঠোফোন পরীক্ষা করে। এ সময় ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করে তারা। তার মুঠোফোনে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল আওয়াল শাওন, জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামসহ বিভিন্ন নেতা-কর্মীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে অভিযোগ করে। এবিষয়ে আসাদুল বলেন সংবাদের জন্যই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন তিনি।
এ ছাড়া জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় জাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক হোসনে আরার সঙ্গেও আসাদুলের যোগাযোগ ছিল বলে জানা যায়। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ওই ঘটনায় শাস্তিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধ্যাপক হোসনে আরাকে ‘সতর্ক’ করেছিল। তবে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন আসাদুল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আসাদুল আমেরিকা থেকে পরিচালিত একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল চ্যানেল ১৪’এর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই পোর্টালে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পক্ষে প্রচারণামূলক সংবাদ প্রকাশ করা হতো। এমনকি জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে নিয়েও ওই পোর্টালে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার বলেন, “আমরা দেখেছি, আসাদুল এর আগেও ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং এখনো গোপনে সে এই নেটওয়ার্ক রক্ষা করে যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে। হল সংসদ ও জাকসুর নেতাদের তথ্য সে (আসাদ) দেশে ও দেশের বাইরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পাঠিয়েছে। তাকে আমরা আইনের হাতে তুলে দিয়েছি। তার নামে মামলা হবে এবং রাষ্ট্রীয় আইনে তার বিচার হবে।”
ঘটনার বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগ দায়ের করেছে এবং মামলা রুজু হয়েছে। তাকে আজ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি আসাদুল আমলের এমন গ্রেফতার মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ বলে সংশ্লিষ্টদের মতামত।
