নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে অর্থের বিনিময়ে অভিবাসন সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা—ইউএসসিআইএসের এক সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রিনকার্ড, নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন অভিবাসন আবেদন নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমোদন ও দ্রুত নিষ্পত্তি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, লুকমান ওওলাবি গানিউ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ইউএসসিআইএসে দায়িত্ব পালনকালে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন অভিবাসন আবেদন অনুমোদন করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, এখতিয়ারসংক্রান্ত বিধিনিষেধ, পটভূমি যাচাই এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে আবেদন অনুমোদন ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, গানিউ এবং তার সহযোগী আদেনিই আকিম সোমোয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে অর্থ লেনদেন ও অভিবাসন আবেদনের বিষয়ে ব্যাপক হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগের তথ্যও তদন্তকারীরা পেয়েছেন। কিছু অর্থপ্রদানের সঙ্গে গানিউয়ের অনুমোদন করা নির্দিষ্ট অভিবাসন আবেদনের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গানিউ পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদন, স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ড, স্থায়ী বসবাসের শর্ত প্রত্যাহার এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনের মতো বিভিন্ন নথি নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমোদন করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, এসব সুবিধা পাওয়া অনেক আবেদনকারীই ফেডারেল আইনের অধীনে ওই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গানিউ ও সোমোয়েকে গত ২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তাকে অবৈধ অর্থ বা সুবিধা দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
তদন্তে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় এবং এফবিআইয়ের ডালাস শাখা অংশ নেয়।
তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, ফৌজদারি অভিযোগ এখনো কেবল অভিযোগ; আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গানিউ ও সোমোয়েকে আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
