গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও কারাগার থেকে লুণ্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ এখন অপরাধ জগতের নতুন প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্র আধিপত্য বিস্তার, মাদক সাম্রাজ্য রক্ষা, টার্গেট কিলিং, চাঁদাবাজি এবং ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে রমরমা বাণিজ্যে ব্যবহার হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, দাগি সন্ত্রাসী না হয়েও সাধারণ অপরাধীদের হাতে পুলিশের ব্যবহৃত অত্যাধুনিক অস্ত্র পৌঁছে গেছে। সম্প্রতি রাজধানীর গাবতলীতে একটি হলুদ স্পোর্টস কার ধাওয়া করে সাজ্জাদ হোসেন আশিক নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর তার কাছে মিলবে পুলিশের ব্যবহৃত সেমি-অটোমেটিক ৯ এমএম পিস্তল। তদন্তে দেখা যায়, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা শাহরিয়ার চৌধুরী নামে এক তরুণ ধানমন্ডির এক গ্রুপের সাথে বিরোধে জড়িয়ে ৪ লাখ টাকায় এক সন্ত্রাসী চক্রের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ওই অস্ত্রটি কিনেছিল।
অপরদিকে স্বামীবাগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শকের ওপর গুলির ঘটনার তদন্তে ওয়ারী থানা থেকে লুট হওয়া ৪টি অস্ত্রসহ মোট ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার হোতা শীর্ষ মাদক কারবারি ‘অটো সজল’ ও তার ভাই সজীব পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, তারা থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র অন্যান্য অপরাধীদের কাছে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ভাড়া দিত। এছাড়া গেন্ডারিয়ার মুন্সিরটেক এলাকায় সম্প্রতি ২০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে ৩ জনকে আহত করার নেপথ্যেও এসব লুণ্ঠিত অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।
উদ্ধার বাকি ১,৩১০টি অস্ত্র ও বিপুল গোলাবারুদ: পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সর্বমোট ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। গত ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫৩টি উদ্ধার হলেও এখনো ১ হাজার ৩১০টি অস্ত্র বেহাত রয়েছে।
উদ্ধার না হওয়া প্রধান প্রধান অস্ত্রের তালিকা:
- রাইফেল ও এসএমজি: ১০৯টি চায়না রাইফেল, ১টি বিডি রাইফেল, ৩০টি এসএমজি ও ৩টি এলএমজি।
- পিস্তল ও শটগান: ৪৪৩টি ৯ এমএম পিস্তল, ২০৩টি ৭.৬২ মিমি চায়না পিস্তল, ৩৮৪টি ১২ বোরের শটগান ও ১২৮টি গ্যাস গান।
- গোলাবারুদ ও গ্রেনেড: ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০০ রাউন্ড গুলি, ১১ হাজার ৩৯১টি টিয়ার গ্যাসের শেল, ১ হাজার ১৬৮টি সাউন্ড গ্রেনেড, ২৯১টি টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড ও অন্যান্য সরঞ্জাম।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঝুঁকি কমাতে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, লুটের অস্ত্র উদ্ধারে এবার র্যাবের নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা হয়েছে, যেখানে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ), স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ (এসবি) অন্যান্য সংস্থাও অংশ নিচ্ছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদের তথ্যদাতাদের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
