যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদায়নে মোট ৭৬ লাখ টাকা লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি দায়িত্ব বাতিল করে নতুন করে পদায়নের আদেশ জারি করার বিনিময়ে প্রতি কর্মকর্তার কাছ থেকে গড়ে প্রায় ২ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি ও পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের ক্ষেত্রেও বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের নথিতে দেখা যায়, ১৫০ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির ক্ষেত্রে মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং পদোন্নতি শেষে সুবিধাজনক স্থানে পদায়নের বিনিময়ে আরও ২ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন করা হয়। কেবল এই নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নসংক্রান্ত খাত থেকেই সর্বমোট ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করেছে দুদক। উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে গঠিত এই দলে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান আকন এবং উপ-সহকারী পরিচালক রোমান উদ্দিন।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানকারী টিম নথিপত্র ও তথ্যপ্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
