যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের পাসপোর্টের আবেদন করার ক্ষেত্রে এবার মা-বাবাকেও নিজেদের নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসনের বৈধতার নথিপত্র জমা দিতে হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার সাম্প্রতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এমন একটি নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব তৈরি করেছে।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি খসড়া নির্দেশিকায় ট্রাম্পের গত ৬ আগস্ট জারি করা ১৪৪১৮ নম্বর নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। মূলত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা কেবল সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে সে দেশে ভ্রমণ বন্ধ করা এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঐতিহ্যগত সুবিধার পরিধি কমিয়ে আনাই এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা ও তাৎপর্য রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই নীতি অনুসরণ করেই পাসপোর্ট অনুমোদনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় নতুন এই মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
নতুন প্রস্তাবে যা রয়েছে:
- নথিপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা: নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিশুদের পাসপোর্টের আবেদনকালে মা-বাবা বা আইনি অভিভাবকদের নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ জমা দিতে হবে। আর অ-নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে আই-৯৪ (I-94) ফর্ম অথবা গ্রিন কার্ডের কপি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে।
- বর্তমান বিধির সাথে পার্থক্য: বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া সন্তানের পাসপোর্টের জন্য মা-বাবাকে কেবল অভিভাবকত্বের প্রমাণ এবং নিজেদের ছবিযুক্ত আইডি দেখাতে হয়। আবেদন ফরমে তাদের নাগরিকত্বের তথ্য লেখার সুযোগ থাকলেও এর সপক্ষে আলাদা কাগজপত্র দিতে হয় না।
- নাগরিকত্ব যোগ্যতা যাচাই: স্টেট ডিপার্টমেন্ট মা-বাবার দেওয়া এসব তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে যে নতুন নির্বাহী আদেশের অধীনে শিশুটি মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য কি না।
আইনি চ্যালেঞ্জ ও ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো অটোমেটিক জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রথা সীমিত করা। এর আগে কেবল মার্কিন নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দেওয়া আদেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী লঙ্ঘন করে বলে সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ বিচারকের বেঞ্চ বাতিল করে দেন।
পরবর্তীতে গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প আরও সুনির্দিষ্ট করে একটি নতুন আদেশ (EO 14418) জারি করেন। এতে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তা/কূটনীতিকদের সন্তান, জালিয়াতি বা বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা এবং ‘শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি’ (Alien Enemy) হিসেবে চিহ্নিতদের সন্তানদের নাগরিকত্ব বঞ্চনার আওতায় আনা হয়। তবে প্রশাসনের এই নতুন রূপরেখা ও পাসপোর্ট নীতিও আদালতের নতুন চ্যালেঞ্জ ও আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
