নিজস্ব প্রতিনিধি : কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রী ও তাঁর দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করার এক জঘন্য অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার মধ্যরাতে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল ওই প্রবাসীর বাড়ির জানালার লোহার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে।
লুটপাট শেষে একপর্যায়ে ডাকাতদলের বেশ কয়েকজন সদস্য বাড়িতে অবস্থানরত গৃহকর্ত্রী এবং তার স্কুলপড়ুয়া নাবালিকা কন্যাকে জোরপূর্বক আলাদা কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে মা ও মেয়েকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের পর সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে ডাকাতরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আজ মঙ্গলবার সকালে এই বর্বর ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্র ও চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
পরে গুরুতর আহত, রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষার জন্য তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান, তাঁর ভাগ্নির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতির পাশাপাশি মা-মেয়েকে পাশবিক ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ঘটনার পর আজ মঙ্গলবার স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এই ঘটনায় ৬ জনকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অধিকতর তদন্ত ও বাকি অপরাধীদের ধরতে তিনি নিজে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন।
চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস বলেন, প্রবাসীর বসতঘরে ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
