আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে আসল পুলিশ, শেরিফ কিংবা ফেডারেল এজেন্টের ছদ্মবেশ ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নগদ টাকা, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি এই বিষয়ে প্রবাসীদের সতর্ক করে যৌথ বার্তা ও নির্দেশিকা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) এবং ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)।
এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রতারকেরা ফোনে নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা বা প্রসিকিউটর পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের কোনো অপরাধমূলক তদন্তে জড়িত থাকার ভীতি প্রদর্শন করে। এফবিআই আটলান্টার ভারপ্রাপ্ত স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ পিটার এলিস জানান, প্রতারক চক্রটি মূলতঃ সাধারণ মানুষের “ভয় ও আতঙ্ককে” পুঁজি করে ফাঁদ পাতছে।
প্রতারক চেনার উপায় ও প্রতারণার ধরণ:
পেমেন্ট অ্যাপ বা গিফট কার্ডে টাকা চাওয়া: এফটিসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ফোন করে কখনোই জেলের ভয় দেখিয়ে গিফট কার্ড, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্যাংকিং অ্যাপস (Zelle, Cash App, Venmo) কিংবা ওয়্যার ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা দাবি করবেন না।
কলার আইডি স্পুফিং: প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতারকেরা কলার আইডিতে আসল পুলিশ স্টেশন বা সরকারি অফিসের ফোন নম্বর প্রদর্শন করতে পারে। এমনকি তারা কোনো প্রকৃত পুলিশ কর্মকর্তার নাম ও ব্যাজ নম্বরও ব্যবহার করতে পারে।
চলন্ত গাড়ি থামানোর চেষ্টা: পুলিশের মতো লাল-নীল বাতি ব্যবহার করে গাড়ি থামানোর ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি ফ্লোরিডার হিলসবোরো কাউন্টিতে লাল-নীল বাতি জ্বালিয়ে গাড়ি থামানোর সময় নাদি জাবারি (৪৬) নামের এক ভুয়া পুলিশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সন্দেহ হলে প্রবাসীদের করণীয়:
১. ফোন আসলেই যাচাই করুন: পুলিশ পরিচয়ে ফোন আসলে সাথে সাথেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে কল কেটে দিন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগের সঠিক ফোন নম্বর নিজে সংগ্রহ করে ফোন দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হন।
২. গাড়ি থামানোর আগে সতর্কতা: নির্জন রাতে বা রাস্তায় কোনো গাড়ি লাল-নীল বাতি জ্বালিয়ে থামাতে বললে আতঙ্কিত হয়ে পালানোর চেষ্টা না করে গাড়ির গতি কমান। এরপর জনসমাগমপূর্ণ বা আলোযুক্ত নিরাপদ স্থানে গাড়ি নিয়ে যান এবং সাথে সাথে ৯১১-এ কল করে পেছনের গাড়িটি আসল পুলিশের কি না যাচাই করুন।
৩. পরিচয়পত্র দেখতে চান: পুলিশ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তির কাছে তাঁর অফিসিয়াল আইডি কার্ড, নাম ও ব্যাজ নম্বর দেখতে চাইতে পারেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্পষ্ট বক্তব্য ব্যাজ, ইউনিফর্ম কিংবা লাল-নীল বাতি দেখে অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না। প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে যেকোনো অর্থ লেনদেনের আগে পরিচয় যাচাই করাই প্রবাসীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
