আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অন্তর্দ্বন্দ্বে আবারো প্রকাশ্যে এসেছে সহিংসতা। নিউইয়র্ক সিটির ওজোন পার্কে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের নেতা ও বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জাকির এইচ চৌধুরী। ঘটনা ঘটার পরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী নোয়াখালী জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি নাঈম ইসলাম টুটুলকে গ্রেপ্তার করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জাকির এইচ চৌধুরী তাঁর এক সহযোগীকে নিয়ে ওজোন পার্কের একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় আকস্মিকভাবে নাঈম ইসলাম টুটুল তাঁর পথরোধ করেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে টুটুল ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছুড়ে মারলে জাকিরের মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগে। এ সময় জাকিরকে শারীরিকভাবেও প্রহার করা হয়। পরবর্তীতে ৯১১-এ কল করা হলে এনওয়াইপিডির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অভিযুক্ত নাঈম ইসলাম টুটুলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেন।
দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, এই সহিংসতার নেপথ্যে ছিল গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নোয়াখালী জাতীয়তাবাদী ফোরামের একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান। যেখানে বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে ক্ষোভের জেরে জাকির চৌধুরী সভাপতি নাঈম ইসলাম টুটুলকে সভাপতিত্ব করতে দেননি এবং প্রকাশ্যে মাইক কেড়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার শোধ তুলতেই ওজোন পার্কে সুযোগ বুঝে জাকির চৌধুরীর ওপর প্রকাশ্যে এই হামলা চালানো হয়।
এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং সাধারণ প্রবাসীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রবীণরা বলছেন, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। দলটি বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকলেও প্রবাসে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সংকট, অন্তর্দ্বন্দ ও পদ-পদবির লোভে বারবার রাজপথে এসব হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো জায়গায় বাংলাদেশি রাজনীতিবিদদের এমন অপেশাদার ও সহিংস আচরণ আন্তর্জাতিকভাবে পুরো প্রবাসী কমিউনিটির ভাবমূর্তিকে চরম ক্ষুণ্ন করছে।
ঘটনাটি বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) গভীরভাবে তদন্ত করছে। প্রবাসী সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবেই, তবে তার সমাধান হওয়া উচিত দলীয় টেবিলে—আইনের শাসনের দেশে রাজপথে সহিংসতা চালিয়ে নয়।
