বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই এমনই এক যুগান্তকারী বার্তা উঠে এসেছে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত ‘যুব সম্মেলন’-এর সাইডলাইন বৈঠক থেকে। উক্ত সম্মেলনে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো বিশ্বমঞ্চে মানবিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল’-এর চেয়ারপারসন, বিশিষ্ট বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীকে বিশ্বকাপের মডেল হিসেবে একটি বিশেষ ‘ফুটবল’ স্মারক হিসেবে উপহার দিয়েছেন।
গত ১৭ জুলাই জাতিসংঘে ‘যুবসমাজের মানসিক স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ (ইউথ মেন্টাল হেলথ ম্যাটার্স) শিরোনামে এক বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। সেখানে আলোচনা চলাকালে বিশ্বজুড়ে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রতি ইঙ্গিত করে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্টিনো বলেন, বিশ্বকাপের সুবাদে আজ সারা বিশ্ব এক ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এমনকি যেসব দেশ বর্তমানে যুদ্ধে লিপ্ত, তাদের জাতীয় দলগুলোও একই ক্রীড়াযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে। এই ঐক্যের চেতনাকে ধারণ করেই তরুণ সমাজ বিশ্বশান্তির স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি যুবসমাজকে দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ফুটবলসহ সব ধরনের ক্রীড়াচর্চায় সম্পৃক্ত থাকার ওপর জোর দেন তিনি।
সম্মেলনে মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী ফিফা প্রধানকে জানান, তরুণরা যত বেশি ক্রীড়াক্ষেত্রে যুক্ত থাকবে, সমাজ ও রাষ্ট্র তত দ্রুত মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান হবে এবং একটি শান্তিময় সমৃদ্ধ পরিবেশের সূচনা ঘটবে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তরুণ সমাজকে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেেই ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এই আয়োজনে অংশ নেন।
বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ঠিক আগের দিন এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় আলোচনাজুড়ে বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশ্বজনীন ঐক্যের বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পায়।
এদিকে বিশ্বকাপের জমকালো ফাইনাল উপভোগ করতে নিউ ইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে অভূতপূর্ব উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রবাসীদের সুবিধার জন্য খোলা মাঠ ও বড় বড় পার্টি হলে ম্যাচটি সরাসরি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে। এই আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিতে অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং ‘অল কাউন্টি হোমকেয়ার’-এর সৌজন্যে জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে বিশেষ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা কোনো প্রকার টিকিট ছাড়াই বিনামূল্যে চা-নাস্তাসহ উৎসবমুখর পরিবেশে এই খেলা উপভোগ করতে পারবেন।
