নিজস্ব প্রতিনিধি : ‘বানিয়াচং থানা জ্বালিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়েছি’ বলে চলতি বছরের শুরুতে পুলিশের সামনেই সদম্ভে ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদী হাসান। ঘটনার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় এবার ছাত্রদলের কর্মীদের হামলার হাত থেকে নিজের প্রাণ বাঁচাতে সেই পুলিশ ও থানার ভেতরেই আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার (১০ জুন) হবিগঞ্জ সদর থানায় রিকশাযোগে ছুটে গিয়ে আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে পুলিশের কাছে আশ্রয় নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আজ পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাঁর ওপর হামলার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেছে বলে অভিযোগ তুলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভ করেন মাহাদী। লাইভে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত আতঙ্কিত অবস্থায় এক সহযোগীকে নিয়ে রিকশায় করে থানার দিকে ছুটছেন এবং লাইভের শেষ অংশে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে ঢুকে পুলিশের কাছে জীবন ভিক্ষা চাচ্ছেন।
ফেসবুক লাইভে মাহাদী হাসান বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে আসার পথে তাঁর ওপর এই ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যদিও নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা তিনি আগেই প্রশাসনকে অবহিত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২ জানুয়ারি এক যুবককে ছাড়াতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে বসে চরম দম্ভোক্তি করেছিলেন মাহাদী। সে সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’
ঐ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর প্রেক্ষিতে গত ৩ জানুয়ারি মাহাদীকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাঁর সমর্থকদের আন্দোলনের মুখে ৪ জানুয়ারি আদালত তাঁকে জামিনে মুক্তি দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিনে একদল বিক্ষোভকারী বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ গাছে ঝুলিয়ে রেখেছিল। সেই পুলিশ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা সদম্ভে স্বীকার করা নেতার এভাবে পাঁচ মাসের মাথায় পুলিশের কাছেই জীবন রক্ষার্থে আশ্রয় নেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার জেরে মাহাদীর সঙ্গে ছাত্রদলের বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। তবে আজকের ঘটনার লাইভ ভিডিওতে ছাত্রদলের কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখা যায়নি।
ওসি আরও উল্লেখ করেন, সমন্বয়ক মাহাদী হাসান বর্তমানে থানায় নিরাপদে অবস্থান করছেন এবং তাঁর দেওয়া একটি মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুরো বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
