বিশেষ প্রতিবেদন : ইতিহাসের কি পুনরাবৃত্তি ঘটছে, নাকি এটি ক্ষমতার সেই পুরোনো কৌশলেরই নতুন রূপ? দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর আকস্মিক ‘অসুস্থতা ও পদত্যাগ’-এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই প্রশ্নটিই এখন দেশের রাজনৈতিক অলিন্দে চরম আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি চলে গেছে ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত দেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি হওয়া বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের বহুল আলোচিত ‘অ্যাট বঙ্গভবন: লাস্ট ফেইজ’ (At Bangabhaban: Last Phase) বইটির দিকে।
সেই বইয়ে বিচারপতি সায়েম অত্যন্ত বিষাদময় ভাষায় বর্ণনা করেছিলেন—কীভাবে ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান আট-দশজন সশস্ত্র সেনাবেষ্টিত অবস্থায় তাঁর ঘরে প্রবেশ করে ‘অসুস্থতার কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগপত্রে সই নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, রিভলভার ও ক্ষমতার দাপটের মুখে তাঁকে কীভাবে জোরপূর্বক দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছিল। ১৯৯১ সালে বিতর্কিত এই বইটি বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ ঘোষণার মুখোমুখি হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সেই পুরোনো ইতিহাস এবং ‘অসুস্থতা দেখিয়ে বিদায়’ করার কৌশলটি আবার নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশে বঙ্গভবন থেকে কোনো রাষ্ট্রপতির বিদায় নেওয়ার নেপথ্যে ‘শারীরিক অসুস্থতা’র অজুহাতটি যে সবসময় কেবল স্বাস্থ্যগত বিষয় থাকে না, বরং তার পেছনে থাকে গভীর রাজনৈতিক চাপ—তা ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে। বিচারপতি সায়েমের সাথে ঘটে যাওয়া সেই ঐতিহাসিক ঘটনার মতো এবারও রাষ্ট্রপ্রধানের পরিবর্তন এবং পদত্যাগের ক্ষেত্রে ‘অসুস্থতা’র একই ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার হওয়ায় সচেতন মহলে তীব্র খটকা ও আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
ঐতিহাসিক নথিপত্র এবং বাজেয়াপ্ত হওয়া সেই বইয়ের রক্তহিম করা অনুচ্ছেদগুলো আজ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনীতির আড্ডায় ফিরে আসায় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মূল চরিত্র নিয়ে চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সায়েমের সেই করুণ আত্মকাহিনীর সুর ধরেই সাধারণ জনগণ এবং ইতিহাসবিদরা বর্তমান ক্ষমতার পরিবর্তন ও বঙ্গভবনের অভ্যন্তরীণ নাটকীয়তাকে মেলাতে চেষ্টা করছেন। সাংবিধানিক গতিপথ এবং আগামী দিনের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রতিটি পরিস্থিতি এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সকল সচেতন নাগরিক।
