নিজস্ব প্রতিনিধি: ডিজেল সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ইজারাদার দিদার খন্দকার জানিয়েছেন, বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুদ আছে তা দিয়ে শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনোমতে ট্রলার চালানো সম্ভব। ফলে শনিবার সকাল থেকে বন্দর-নারায়ণগঞ্জ রুটে নিয়মিত ট্রলার সার্ভিস ব্যাহত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কয়েক হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন বলে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইজারাদার দিদার খন্দকার জানান, প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার যাত্রী ট্রলার ব্যবহার করে নদী পার হন। এতদিন যে উৎস থেকে তিনি তেল সংগ্রহ করতেন, তা গত এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, “কালোবাজারি বা উচ্চমূল্যে (১৩০ টাকা লিটার) তেল কিনলেও এখন পাম্পগুলোতে ডিজেল মিলছে না। আজ মাত্র ৫০ লিটার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছি, যা শনিবার দুপুর পর্যন্ত চলতে পারে।” সাতটি ট্রলার সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা যাত্রী পারাপার করে, যা জ্বালানি অভাবে এখন মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএ এবং উপজেলা প্রশাসন বলছে, ইজারাদার তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাননি। নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ডিজেলের বড় কোনো সংকট থাকার কথা নয়। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। ইজারাদার আমাদের জানালে যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে আমরা প্রশাসন ও জ্বালানি পাম্পগুলোতে চিঠি দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার সুপারিশ করব।” সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনও একই কথা জানান, তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেছেন।
ট্রলার চলাচল বন্ধ হলে খেটে খাওয়া মানুষ ও কর্মজীবী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বাতেন বলেন, ট্রলার বন্ধ হলে নৌকার ওপর চাপ বাড়বে, যা ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করবে। ইজারাদার দিদার খন্দকার জানিয়েছেন, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় তিনি প্রশাসনিকভাবে যোগাযোগ করতে পারেননি, তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানিয়েছেন এবং আশ্বাসের অপেক্ষায় আছেন।
