নিজস্ব প্রতিনিধি: নতুন বছরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, “১৯৭৯ সালে নির্বাচনের আগে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী নিজ হাতে জিয়াউর রহমানের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়েছিলেন।” এই বক্তব্যটিই এখন ভুল তথ্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেওয়া তথ্যে ঐতিহাসিক সাল নিয়ে বড় ধরনের ভুল রয়েছে। মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। অথচ তারেক রহমান দাবি করেছেন ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে ভাসানী প্রতীক তুলে দিয়েছেন।
ঐতিহাসিক সত্য হলো, ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করার পর ভাসানীর ন্যাপের একাংশের মহাসচিব মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকটি বিএনপিতে আসে। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে মওলানা ভাসানী বেঁচে থাকা বা প্রতীক তুলে দেওয়ার কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।
তারেক রহমানের এমন তথ্যগত ভুল এটাই প্রথম নয়। গত ডিসেম্বরে নির্বাচনী প্রচারণায় কুমিল্লার ইপিজেড নিয়ে ভুল প্রতিশ্রুতি, মৌলভীবাজারে চলমান মেডিকেল কলেজকে নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে মোনাজাত নিয়ে ‘অভূতপূর্ব’ দাবির মতো ঘটনাগুলো বারবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৭ বছর পর দেশে ফেরায় তার তথ্যের ঘাটতি থাকাটা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও উপদেষ্টামণ্ডলীর দক্ষতা নিয়ে খোদ বিএনপি সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাই এখন প্রশ্ন তুলছেন।
তারেক রহমানের নতুন ও তরুণ উপদেষ্টাদের নিয়ে গঠিত প্রেস উইং ও সরকারি কর্মকর্তারা সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে মনে করছেন অনেকে। বিএনপি সমর্থক সাংবাদিক এলাহী নেওয়াজ খানসহ আরও অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, টাঙ্গাইলের মঞ্চে এমন অভিজ্ঞ কোনো রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, যিনি কানে কানে সঠিক তথ্যটি ধরিয়ে দিতে পারতেন।
প্রবীণ নেতাদের এড়িয়ে তরুণদের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা এবং সঠিক যাচাই-বাছাই না করে বক্তব্য দেওয়া তারেক রহমানের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।
