নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আসন্ন কমিটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও তৎপরতা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতাদের এবার নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মূল্যায়ন করা হবে। এ আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে সাবেক ছাত্রনেতা ও যুবদল নেতা মোঃ আমিনুল হক হিমেলের নাম।
রাজনীতিতে তার পথচলা শুরু ঐতিহ্যবাহী সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের মাধ্যমে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। ছাত্ররাজনীতি থেকে যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে নিজেকে একজন ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০০৫ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন আমিনুল হক হিমেল। একই সময়ে কলেজ হল শাখা ছাত্রদলের সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সঙ্গে সংগঠন পরিচালনা করেন।
এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতির কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।
বিগত সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় একাধিক মামলার মুখোমুখি হন আমিনুল হক হিমেল। নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে কয়েকবার কারাবরণও করতে হয়েছে। এছাড়া নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে সুস্থ হয়ে আবারও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আদর্শিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা আমিনুল হক হিমেল একটি জাতীয়তাবাদী পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তার পিতা মরহুম নূরুল হক গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকার বিএনপির একজন সক্রিয় সংগঠক ও জনপ্রতিনিধি ছিলেন।
আমিনুল হক হিমেল বলেন, “আমি কখনো কোনো পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করি না। ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনৈতিক চর্চার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছি। আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে এবং একজন ত্যাগী ও বঞ্চিত কর্মী হিসেবে মূল্যায়ন করে, তাহলে আমি কৃতজ্ঞ থাকব।”
তিনি আরও বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই আমি রাজনীতি করছি। ভবিষ্যতেও দলের জন্য কাজ করে যাব।”
নেতৃত্বের সুযোগ পেলে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমি প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করতে চাই। তৃণমূলের কর্মীদের নিয়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে। সেই বিবেচনায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আমিনুল হক হিমেলকে দেখতে চান তারা।
