নাসরীন সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য বিএনপি থেকে মনোনয়ন কিনেছেন এমন একজন বলেছেন, “সৎ এবং নিষ্ঠাবান হয়ে মানবসেবা করতে চাই।”
সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য পিএইচডি অ্যাডমিশনের মতো স্টেটমেন্ট অব ইনটেন্ট জনগণের কাছে জমা দেওয়া উচিত। এই যে এনারা মানবসেবা করার জন্য সংসদে যেতে চান, তার জন্য তাঁদের কী ধরনের প্রস্তুতি আছে, অতীতে কী কী মানবসেবা করেছেন যেগুলো তাঁদের ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে কাজ করতে পারে, সংসদ সদস্য হলে তাঁদের কী ধরনের সুবিধা হবে যাতে মানবসেবা করতে পারবেন, এই মানবসেবার মাধ্যমে তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী-এই সকল প্রশ্নের উত্তরসহ স্টেটমেন্ট অব ইনটেন্ট দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করার রীতি চালু করা যেতে পারে।
মানবসেবা কোনো হঠাৎ করে তৈরি হওয়া গুণ নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস। মানবসেবা Aristotle-এর মতে নৈতিক সদ্গুণ, যা কালটিভেট করতে হয়।
আমাদের সমাজ কেন যেন খুব ছোটবেলা থেকে মিথ্যাচার, মেকি আচরনকে প্রমোট করে। স্কুলে থাকতে আমাদের “Aim in Life” রচনা লিখতে হতো যেখানে লেখা থাকতো “আমি ডাক্তার হতে চাই। ডাক্তার হয়ে গ্রামে গিয়ে গরীব মানুষের সেবা করতে চাই।” কি একটা শিক্ষাব্যবস্থা! আমরা ধরেই নেই যে আজকের শিশু ডাক্তার হতে হতে যে ৩০ বছর পার হয়ে যাবে সেই ৩০ বছরেও দেশের মানুষ গরীব থাকবে এবং একজন ডাক্তার একটি ব্যয়বহুল শিক্ষাব্যবস্থা অতিক্রম করে দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র খুলে বসবেন। একদিকে একটি শ্রেণিকে বিনা পয়সায় সেবা গ্রহণের লোভ দেখাচ্ছি, অন্যদিকে তাদের সেই সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে নিজের আখের গোছাচ্ছি। মুর্খ জাতি কাকে বলে!
মাদার তেরেসা, বিল গেটসের মানবসেবা করার জন্য সাংসদ হওয়ার দরকার হয়নি। কিন্তু আমাদের দেশের লোকজন সাংসদ না হলে মানবসেবা করতে পারেন না। তাদের মনে হয় কেউ হাত-পায়ে শিকল দিয়ে রাখে।
