নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার বিরুদ্ধে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) একাধিক ছাত্রী ও নারী শিক্ষকদের উত্যক্তকরণ এবং অশালীন কুপ্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষেই ওই নেতাকে জুতাপেটা করেছেন। পরবর্তীতে ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে তিনি সাময়িকভাবে রেহাই পান। গত ২৪ মে ঘটে যাওয়া এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আলী আজম সাব্বির খান। তিনি বগুড়া শিবগঞ্জের দহিলা গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে এবং বগুড়া টিটিসিতে তিন মাস মেয়াদী ড্রাইভিং ও আরএসি (RAC) ট্রেডের একজন ছাত্র। একই সঙ্গে তিনি জেলা এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাব্বির খান টিটিসিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই নিজের ট্রেডের পাশাপাশি অন্যান্য ট্রেডের অন্তত ২০ জন ছাত্রীকে মোবাইল ফোন ও সরাসরি নানাভাবে উত্যক্ত করাসহ অশালীন কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। শুধু ছাত্রীরাই নন, প্রতিষ্ঠানের অন্তত ছয়জন নারী শিক্ষককেও তিনি একই ধরনের কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা এর প্রতিবাদ করলে সাব্বির নিজেকে এনসিপির প্রভাবশালী ‘সমন্বয়ক’ পরিচয় দিয়ে তাঁদের নানা ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করতেন।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা টিটিসির অধ্যক্ষের কাছে লিখিত বিচার দাবি করলে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। তবে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে সাব্বির নিজের আচরণ সংশোধন করেননি। উল্টো প্রতিষ্ঠান ছুটির দিন গত ২৪ মে তিনি অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে চরম অসদাচরণ করেন এবং তাঁদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা চালান। এই খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ ও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষেই তাঁকে অবরুদ্ধ করে জুতাপেটা করেন। পরে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ‘ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না’ মর্মে একটি লিখিত মুচলেকা দিয়ে তিনি ক্যাম্পাস ছাড়েন।
এই বিষয়ে বগুড়া টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এস এম ইমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এটি একটি সাধারণ ঘটনা। ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।” তবে অধ্যক্ষ এটিকে ‘সাধারণ ঘটনা’ বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তাঁরা লম্পট সাব্বিরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত ২৫ মে সংগঠনের জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে সাব্বির খানকে সংগঠনের সমস্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদ ও সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা এনসিপির একজন দায়িত্বশীল নেতা অভিযুক্ত সাব্বির খানের বিরুদ্ধে আনীত সকল নৈতিক স্খলন ও উত্যক্তকরণের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
