কলাম লেখক: সৈয়দা রাজিয়া মোস্তফা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাংগঠনিক সম্পাদক
এবারের ঈদ বাংলাদেশের মানুষের কাছে অন্যরকম। উৎসব আছে, কিন্তু উৎসবের প্রাণ নেই। চারদিকে অস্থিরতা, নৈরাজ্য আর অনিশ্চয়তা। মানুষের মনে ঈদের আনন্দ নেই— আছে শুধু নিয়ম রক্ষার দায়।
আমার পর্যবেক্ষণে, দেশের প্রায় ৮০% মানুষ এবার ঈদ উদযাপন করতে পারেনি মন থেকে। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ— নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া।
শেখ হাসিনার শাসনামলের ঈদ বনাম আজকের ঈদ
শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রতিটি ঈদের আগে দুস্থ, অসহায় ও গরিব মানুষের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ছিল নিয়মিত চিত্র। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পৌঁছে যেত ঘরে ঘরে। মসজিদে মসজিদে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উৎসবের আবহ তৈরি হতো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়।
কিন্তু এই বছরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনে দেশ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে।
বাকস্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের সংকট
মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যমকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। সত্য প্রকাশ করতে গেলেই নেমে আসছে খড়গ। বিচার বিভাগ আজ অসহায়। বিচারপতিরা নির্ভয়ে রায় দিতে পারছেন না।
রাজনৈতিক নিপীড়ন ও মানবিক বিপর্যয়
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৪ লক্ষ ৬৬ হাজার নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ছাত্রলীগের কর্মীরা ঘরবাড়ি ছাড়া। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি
স্বাস্থ্য খাতে চরম অব্যবস্থাপনা চলছে। হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু বেড়েছে। সরকারি হিসাবেই ৫৫৫ জন শিশু মারা গেছে, বেসরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক। সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ৭২ ঘণ্টায় ২৭ জন শিশু ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছে। ৮ বছরের শিশু রামিশাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা গোটা জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।
ভারত প্রসঙ্গ ও অপপ্রচার
তথাকথিত মৌলবাদী গোষ্ঠী ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান তুলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অথচ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সৈন্য, অস্ত্র ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশের জন্মে ভূমিকা রেখেছিল। সেই কৃতজ্ঞতা আমরা ভুলিনি। গত দুই বছরে ভারতবিরোধী যে অপপ্রচার চালানো হয়েছে, তা আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পরিণতি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ধ্বংস করা হয়েছে। আজ সেই শিক্ষার্থীরাই বলছে, “আমরা প্রতারিত হয়েছি, ভুল করেছি। শেখ হাসিনার আমলেই দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ছিল।”
জনগণের দাবি
চারদিকে একটাই আওয়াজ— বাংলাদেশকে এই অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন প্রয়োজন। এটা এখন সময়ের দাবি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। কারণ মানুষ বুঝে গেছে, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও উৎসবের নিশ্চয়তা একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সম্ভব।
এই অস্থির সময়ে ঈদ এসেছে, কিন্তু আনন্দ আনতে পারেনি। মানুষ চায় শান্তি, চায় স্বস্তি, চায় শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।
