নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নজিরবিহীন ও তীব্র কড়া ট্রল-প্রচারণা শুরু হয়েছে। ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার) সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নেটিজেনদের একটি অংশ প্রাচীন মিসরের স্বৈরশাসক ‘ফেরাউন’-এর মমি ও ছবির পাশে প্রফেসর ইউনূসের ছবি কোলাজ করে পোস্ট করছেন। চেহারার অবয়বের মিলের দাবি তোলার পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুকে সামনে এনে নেটিজেনরা তাঁর তীব্র সমালোচনা করছেন।
গত কয়েকদিনে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের ধারাবাহিক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি কাদা-ছোড়াছুড়ির মাঝেই সাইবার দুনিয়ার এই নতুন ট্রেন্ড পলিটিক্যাল টক অব দ্য নেশনে পরিণত হয়েছে।
চেহারার মিল ও ইস্যুভিত্তিক আক্রমণ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘুরে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে নেটিজেনরা মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট বিষয়কে সামনে রেখে ড. ইউনূসের সমালোচনা করছেন:
১. আমেরিকার সাথে বিতর্কিত বাণিজ্যচুক্তি: সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা বাণিজ্যচুক্তির অস্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থকে উপেক্ষা করে তাড়াহুড়ো করে এই চুক্তি করা হয়েছে, যা এক ধরণের ‘জনবিচ্ছিন্ন’ সিদ্ধান্ত।
২. হামে শিশু মৃত্যুর মতো মানবিক সংকট: দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয় এবং হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর অকাল মৃত্যুর ঘটনাকে দেশের ইতিহাসে এক চরম দুঃসময় ও অবহেলা হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। তৎকালীন প্রশাসনের এই ব্যর্থতাকে প্রাচীন মিসরের ঐতিহাসিক সংকটের রূপক হিসেবে ব্যবহার করে নেটিজেনরা ইউনূস প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড়া করাচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের ঈদ বার্তাতেও একই সুরের প্রতিধ্বনি
সোশাল মিডিয়ার এই সাধারণ ট্রল ও ক্ষোভের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিরও মিল পাওয়া যাচ্ছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাও দেশের এই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি তাঁর বাণীতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন:
“আজ এক মহাসংকট ও দুঃসময়ের মাঝে আমাদের মাঝে পবিত্র ঈদ ফিরে এসেছে। হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর অকাল মৃত্যু, চরম বিপর্যস্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভেঙে পড়া অর্থনীতি দেশবাসীকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চব্বিশের আন্দোলনের দুই সহযোদ্ধা সংগঠন এনসিপি ও ছাত্র অধিকার পরিষদের ভেতরের আর্থিক কেলেঙ্কারি, কাদা-ছোড়াছুড়ি এবং সাবেক উপদেষ্টাদের একের পর এক গোপন তথ্য ফাঁসের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের কুশীলবদের নৈতিক অবস্থান জনসাধারণের কাছে চরম ধাক্কা খেয়েছে। আর সেই জন-অসন্তুষ্টিরই এক চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটছে সোশাল মিডিয়ার এই সমালোচনামূলক পোস্ট ও মিমের মাধ্যমে।
