নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন বিতর্ক ও তোলপাড় শুরু হয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ ২১ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর প্রশাসনের নানা সিদ্ধান্ত এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে একটি চাঞ্চল্যকর জনমত জরিপের ফলাফল সামনে এসেছে। ওই জরিপের দাবি অনুযায়ী, দেশের রেকর্ডসংখ্যক ৯৭ শতাংশ মানুষই এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর তীব্র ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট।
ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে এবং গত ২৭ মে ভোর ৬টা ৫০ মিনিটে তাঁর অতি গোপনে দেশত্যাগের খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই এই জরিপের পরিসংখ্যানটি প্রকাশ পাওয়ায় তা দেশের রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যেসব কারণে ক্ষোভ ও অসন্তোষের দাবি
জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে ড. ইউনূসের তৎকালীন প্রশাসনের প্রতি তীব্র অনাস্থার পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল বিষয়কে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:
১. টিকা সংকটে স্বাস্থ্য খাতের বিপর্যয়: ড. ইউনূস প্রশাসনের অন্যতম বড় সমালোচনা হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতের স্থবিরতা। যথাসময়ে হামের প্রতিষেধক টিকা ক্রয় ও সরবরাহ না করার কারণে দেশজুড়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
২. আমেরিকার সাথে বিতর্কিত চুক্তি: নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক স্বার্থকে উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তড়িঘড়ি করে করা বাণিজ্যচুক্তিটি নিয়ে দেশের সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
৩. ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বিতর্ক ও তথ্য ফাঁস: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের ধারাবাহিক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস এবং প্রশাসনের ভেতরে গড়ে ওঠা ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর গোপন ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র ড. ইউনূসের নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এ ছাড়া চব্বিশের আন্দোলনের দুই সহযোদ্ধা সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের মধ্যকার সাম্প্রতিক কাদা-ছোড়াছুড়িও প্রশাসনের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে স্পষ্ট করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের পর যে আশার আলো নিয়ে মানুষ বুক বেঁধেছিল, পরবর্তীতে বিভিন্ন খাতের সংকট ও পর্দার আড়ালের নানামুখী স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সেই মোহভঙ্গ হয়েছে। আর সেই তীব্র ক্ষোভ ও হতাশারই এক চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে এই জরিপের মতামতের মধ্য দিয়ে।
