নিজস্ব প্রতিনিধি : রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে এক নারী শিক্ষিকাকে জুতাপেটা ও কলেজে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলী ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলাকালীন এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্তত পাঁচজন শিক্ষক-কর্মচারী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরের দিকে জয়নগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকবর আলীর নেতৃত্বে একদল লোক অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁরা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষের সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব দাবি করলে শিক্ষকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা উত্তেজিত হয়ে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করেন এবং জনসমক্ষেই জুতাপেটা করেন। এরপর পুরো অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
হামলায় অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা ও অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী গুরুতর আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করে বলেন, “তাঁরা বিভিন্ন সময় কলেজে এসে হিসাবের নামে মূলত চাঁদাবাজি করতেন। আমি অধ্যক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ করায় তাঁরা আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও জুতাপেটা করেছে।”
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, চার মাস আগে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তাঁর কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁরা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আকবর আলী চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, আগের অনিয়মের হিসাব চাইতে গেলে শিক্ষকরাই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং ওই শিক্ষিকাই প্রথম তাঁদের ওপর হামলা করেছেন।
ঘটনার সময় পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন হামলায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কিছু লোক জোরপূর্বক কলেজে প্রবেশ করে এই ঘটনা ঘটায়। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
