নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রবাসী বাংলাদেশি ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য এক বড় ধরনের ধাক্কা ও দুঃসংবাদ সামনে এসেছে। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহিত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে চালু হওয়া ২.৫০% নগদ প্রণোদনা সুবিধাটি সম্পূর্ণ বন্ধ হতে যাচ্ছে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠালে এখন থেকে আর এই অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ নগদ সরকারি সহায়তা পাবেন না।
রেমিট্যান্স প্রবাহের ভরা মৌসুম এবং উৎসবের আবহের মাঝেই এই প্রণোদনা বন্ধের খবর আসায় বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি প্রবাসীর মাঝে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীরা যাতে অবৈধ হুন্ডি পরিহার করে বৈধ ও প্রাতিষ্ঠানিক পথে দেশে টাকা পাঠান, সেই উদ্দেশ্যে সাবেক শেখ হাসিনা সরকার যেকোনো অঙ্কের রেমিট্যান্সের ওপর ২.৫০% নগদ প্রণোদনা চালু করেছিল। এই নিয়মের অধীনে কোনো প্রবাসী বিদেশ থেকে ১ লক্ষ টাকা পাঠালে, বাংলাদেশে তাঁর পরিবার ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ২,৫০০ টাকাসহ মোট ১ লক্ষ ২ হাজার ৫০০ টাকা হাতে পেতো। কিন্তু নতুন নির্দেশনায় এই সুবিধাটি সম্পূর্ণ বাতিল করা হচ্ছে। ফলে এখন থেকে প্রবাসীরা ১ লক্ষ টাকা পাঠালে পরিবার কেবল মূল ১ লক্ষ টাকাই পাবে। এর ফলে প্রতি লক্ষ টাকা দেশে পাঠাতে গিয়ে প্রবাসীদের সরাসরি ২,৫০০ টাকা আর্থিক লোকসানের মুখোমুখি হতে হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলছেন, ২.৫০% নগদ প্রণোদনা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য চরম ক্ষতিকর ও আত্মঘাতী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুবিধাটি বন্ধ হয়ে গেলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন প্রবাসীরা। ব্যাংকের চেয়ে খোলাবাজারে বা হুন্ডিতে ডলারের রেট বেশি থাকায়, এই সরকারি প্রণোদনা না থাকলে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা আবারও অবৈধ ‘হুন্ডি’র দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকবেন। এর ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসা এক ধাক্কায় বহুগুণ কমে যেতে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে এক গভীর ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দেবে। প্রবাসীদের যেখানে সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে পুরস্কৃত করার কথা, সেখানে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা।
