নিজস্ব প্রতিনিধি
গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও এবার কলঙ্কিত অধ্যায় যুক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ সেশনের নির্বাহী কমিটি নির্বাচনে পদের বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সব কটি পদে প্রার্থীরা ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ জয়ী হয়েছেন। তবে এই জয়কে সাধারণ আইনজীবীরা দেখছেন ‘জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল’ হিসেবে।
অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের নাম দিয়ে মূলত জামায়াত বিএনপি ও এনসিপির নিজেদের পকেট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বিরোধী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে বাধা প্রদান, মারধর এবং আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন।
গত ১২ এপ্রিল তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বাক্ষরিত তালিকায় দেখা যায়, সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মৃধা নজরুল কবিরসহ মোট ১১টি পদের সবকটিতেই একক প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
আদালত পাড়ায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে সাধারণ আইনজীবীদের চাপা ক্ষোভ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আইনজীবী জানান, এই নির্বাচন ২০২৬ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের প্রতিচ্ছবি। তাদের ভাষ্যমতে, নিজেরাই রেফারি, নিজেরাই প্লেয়ার আর গোল দিয়ে নিজেরাই এখন বিজয়ী। কাউকে ফরম নিতে দেওয়া হয়নি, যারা সাহস করেছে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এটি নির্বাচন নয়, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে করা একটি সাজানো নাটক।
ভুক্তভোগী আইনজীবীদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে আইনজীবী সমিতি ভবনে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে রাখা হয়েছিল। যারা ভিন্ন মতাদর্শের বা পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন, তাদের মনোনয়ন ফরম নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেককে লাঞ্ছিত করে বের করে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই ‘বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়’ জয়ের পথ সুগম করা হয়।
এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছেন, এভাবেই যদি পেশাজীবী সংগঠনগুলোতে নিজেদের লোক বসানো হয়, তবে সাধারণ মানুষ আইনি অঙ্গনে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। এই তথাকথিত ‘পরিবর্তন’ বা ‘একপাক্ষিক জয়’ কতদিন টিকে থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আইনজীবী সমিতির মতো একটি সম্মানজনক জায়গায় এমন ‘গলা ধাক্কা’ ও ‘মারধরের’ মাধ্যমে কমিটি গঠনকে জেলা আইনজীবী সমাজের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে গণ্য করছেন সচেতন মহল।
