নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের রাজনীতির অন্দরমহলে আবারও উত্তাপ ছড়াচ্ছে সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া রহস্যময় সব ঘটনা। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর অনুযায়ী, শিরীন শারমিনকে আবারও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এই আটকের পেছনে কেবল আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে খণ্ড-বিখণ্ড করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা কাজ করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট মহলে জোর গুঞ্জন উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গুলশানে সাবেক রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের (বর্তমানে যা তারেক জিয়ার বাসভবন বা রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত) বাসভবনের সন্নিকটে একটি বিশেষ স্থানে রয়েছেন। সেখানে আওয়ামী লীগের একটি অংশকে নিয়ে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টা চলছে।
সূত্র জানায়, এই সমঝোতা বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা জয়নাল আবদিন ফারুক এবং ফজলুর রহমান। একই সাথে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী এবং আইনজীবী সারা হোসেনের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে,যে শিরীন শারমিনকে কয়েক মাস আগে ‘নিখোঁজ’ বা ‘গোপন অবস্থানে’ থাকা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তাকে নিয়ে কেন এখন বিরোধী শিবিরের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এই দৌড়ঝাঁপ?
বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল ও নিষিদ্ধ করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে শিরীন শারমিনকে ব্যবহার করা হতে পারে। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে দলের একটি অংশকে বের করে এনে একটি ‘কিংস পার্টি’ বা সংস্কারপন্থী গ্রুপ তৈরির চেষ্টা চলছে। এই প্রক্রিয়ায় শিরীন শারমিনের মতো সজ্জন ও গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তির নেত্রীকে সামনে রেখে বর্তমান সরকারের প্রতি নমনীয় একটি রাজনৈতিক ধারা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগপত্র এবং তার অবস্থান নিয়ে নজিরবিহীন নাটকীয়তা দেখা গিয়েছিল। একবার শোনা গিয়েছিল তিনি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। আবার শোনা গিয়েছিল তিনি দেশেই আত্মগোপনে আছেন। সেই রহস্যের জট না খুলতেই আবারও তাকে আটকের খবর পাওয়া গেল। আজকের এই আটক ও গুলশানের গোপন বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পর্দার আড়ালে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা ‘ডিল’ চূড়ান্ত হতে চলেছে।
আগামীকাল (২ মে) এ বিষয়ে হয়তো বড় কোনো ঘোষণা বা সংবাদ আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে শিরীন শারমিন চৌধুরীর এই তথাকথিত ‘সমঝোতা’ বৈঠক কি কোনো জাতীয় ঐক্যের ইঙ্গিত, নাকি আওয়ামী লীগকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত করার চূড়ান্ত নীল নকশা? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন তাকে বারবার হেফাজতে নিচ্ছে এবং ছেড়ে দিচ্ছে?
দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে নিয়ে এই নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য আগামীর রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
