নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) আসন্ন নির্বাচন-২০২৬-কে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র ও নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন উত্তোলনে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। ঐতিহ্যবাহী এই আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ আইনজীবীরা।
এক বিবৃতিতে ঢাকা বারের নিয়মিত প্র্যাকটিশনার ও সাধারণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি এই উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির এই সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক চর্চার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং পেশাগত অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি উল্লেখ করেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রত্যেক বৈধ সদস্যের নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ভোট প্রদান এবং প্রার্থী হওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। কোনো যোগ্য সদস্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে মনোনয়ন ফরম না দেওয়া বা অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করা সরাসরি গঠনতন্ত্রবিরোধী ও বেআইনি কর্মকাণ্ড।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতি একটি ঐতিহ্যবাহী ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান। এখানে দলীয় প্রভাব বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সকল আইনজীবীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাধারণ আইনজীবীরা স্বতন্ত্র বা নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে বঞ্চিত হলে তা এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।
সাধারণ আইনজীবীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে জোরালো দাবি জানানো হয়েছে যেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচন পরিচালনা করা হয়। সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। নারী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখি তার বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট উত্থাপিত অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যদি সকল প্রার্থীর জন্য সমান ও অবাধ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন আয়োজন করা না হয়, তবে এই একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন ঢাকা বারের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক নজির হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা বার নির্বাচনে সাধারণত দেশের বড় দুই রাজনৈতিক আদর্শের প্যানেল ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নিয়ে থাকেন। তবে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির এই অভিযোগ আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, সকল ভয়ভীতি ও বাধা পেরিয়ে তারা তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাবেন।
