ফারদিন ফেরদৌস: ইন্ডিয়ান খ্যাতিমান অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানায় lustfully মুগ্ধ ব্যক্তি, যিনি এমপি হওয়ার পর দাবি করেছিলেন তারচেয়ে বড় উপরওয়ালা আর কেউ নাই। নাউজুবিল্লাহ্।
ওই আমির হামজা সংসদে নাম লেখানোর পরও যথারীতি মাঠে গিয়া ওয়াজ ফরমাইতেছেন। ওয়াজে এবার নিজের সংসদের সহকর্মীদের নিয়ে বলতেছেন, “রুমিন ফারহানা আপা আছে। এরপর এই যে মন্ত্রী পটলের মেয়ে আছে, ফারজানা শারমিন। আমার বামে, ডাইনে এমন এমন বডিওয়ালা লোক পেয়েছি। আল্লাহর ইশারা, ভেতরে গিয়ে দেখি আমার ডানে বামে শুধু বড়িওয়ালা। এমন এমন বড় বড় ভুড়ি,…..! রুমিন ফারহানা আপা আছে… আপারা আমার সামনে। আমার মাঝেমাঝে চিন্তা হয়, হায় আল্লাহ, আমার ডানে বামে যে অবস্থা, ম্যাডামগুলো যদি ওদের পেটের দিকে তাকায়, ভাববে আল্লাহ, ছেলেমেয়ে হয় আমাদের, আর পেট হয় হুজুরের পাশের দুইজনের। কী বডি, উকুন মারা যাবে বডির উপরে।”
এই লোকটার সংসারে কন্যা, জায়া, জননী, ভগ্নি নাই? মানুষ সম্পর্কে দাঁত খিচিয়ে বিকৃত অঙ্গভঙ্গিসমেত বাজে কথা বলা লোকটারে তারা সহ্য করেন কীভাবে?
প্রথম কথা হলো আমরা মাননীয় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের কাছে জোর দাবি করব অবিলম্বে এই সো কলড এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এমন এক স্লাট শেমার, বডি শেমার, নারীবিদ্বেষী মানবতাবিরোধী মৌলভি আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা হারিয়েছেন। তিনি তার শপথ ভঙ্গ করেছেন।
কোনোমতেই যেন একজন নারী এমপিকে ওর ধারেকাছে নয় কেবল দৃষ্টিসীমাতেও না বসানো হয়। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার মতো সংবেদনশীল ও অধিকার সচেতন নারী বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ আইনি প্রতিকার চাইবেন এমনটা আশা করি।
হামজা লোকটা সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ধর্মবিদ্বেষী বলে কোটি টাকার মানহানি মামলা খেয়েছেন। কিন্তু এতটুকু শরম লজ্জা বলতে এই লোকটার কিছু নাই। দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসকে ট্রল করেও তিনি বলেছেন, ‘কী যে হয় -মরে না বাঁচে কে জানে?’ আমির আমজা আপনার মৃত্যু ঠেকিয়ে রাখবার বিষয়ে আজরাইলের সাথে ‘গুপ্ত’ বৈঠক হয়েছে নাকি?
এই মৌলভি এমপি হওয়ার আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন, লালনের অনুসারীরা সবাই গাঞ্জাখোর। কুষ্টিয়ায় লালনের মাজার থাকবে না।
ক্ষমতাচ্যুত হাসিনা সরকারের আমলে ওয়াজে গিয়ে হাসিনাকে তেল দিয়ে বলতেন, ষোলোকোটি মানুষের জননী। তার কাজে যারা বিরোধিতা করবে তারা আল্লাহর লোক না! আরেক বক্তৃতায় বলেছিলেন, খবর নিয়ে দ্যাখ আমার পরিবারের চৌদ্দ গোষ্ঠী আ.লীগ!
এইত সেদিন ইন্টেরিমের সময় লোকটা দাবি করেছিলেন, জাহাঙ্গীরনগরের জার্নালিজম ও মিডিয়া স্টাডিজে ভর্তি হয়েছিলেন। হলে থেকে নাকি তিনি দেখেছেন, সেখানকার আবাসিক স্টুডেন্টরা সকালে মদ দিয়ে কুলি করে! কত বড় মিথ্যাচার একজন মুফতি করতে পারে এটি তার সবিশেষ নমুনা। এই লোকটা যদি কোনোদিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় আমরা নিশ্চিত সেখানকার ছাত্রীরাই ওকে ঝাড়ুপেটা করে ক্যাম্পাস ছাড়া করবে। ১৯৮৯ সালে রাজনৈতিক সং’ঘর্ষে শি’বিরের হাতে ছাত্রদল নেতা কবির মা’রা গেলে জামায়াত শিবিরকে ক্যাম্পাস ছাড়া করেছিল শিক্ষার্থীরাই। বিশেষকরে ছাত্রীদের ঝাড়ু মিছিলের স্মৃতি সেসময়ের বাসিন্দাদের মধ্যে এখনো জ্বলজ্বলে।
করোনা মহামারীকালে এই মোল্লা বলেছিলেন, ‘মুসলমানদের যদি করোনা হয় তবে কোরআন শরীফ মিথ্যা হয়ে যাবে।’ আস্তাগফিরুল্লাহ্। তারপরও এই মোল্লার বিরুদ্ধে ধর্মদ্রোহিতার অভিযোগ কেউ আনেনি। জামায়াতিদের ধর্মানুভূতিও খসে পড়েনি।
সে নিজেরে দাবি করে ভার্সিটির মাল। তো এই মালটারে যদি এখনই না থামানো যায়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হবে। জনপরিসরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে থাকবে। ওর অনুসারীরা নারীর অসম্মান ও অমর্যাদায় অনুপ্রাণিত হবে। বিকৃত মগজধারীরা তাদের দিন এসেছে বলে মনে করবে।
হামজা নামের এই লোকটা না বুঝে আইন, না বুঝে গণতন্ত্র, না বুঝে শিষ্টাচার। তার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সবচেয়ে নিম্নরুচির সিলেকশন হলো আমির হামজা। তাকে থামতে হবে। থামিয়ে দিতে হবে। সভ্যতা ও ভব্যতার জন্য এটা অতীব জরুরি।
