নিজস্ব প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং ডাকসুর বর্তমান ভিপি ও ছাত্রশিবিরের নেতা সাদিক কায়েমের ২০১৮ সালের কিছু ব্যক্তিগত বার্তার (মেসেজ) স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই স্ক্রিনশট ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ। কেউ একে দেখছেন সাদিক কায়েমের ‘গুপ্ত মিশন’ হিসেবে, আবার কেউ গোলাম রাব্বানীর ‘অহংকার’ ও পতনের উদাহরণ হিসেবে চিত্রিত করছে
ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ২০১৮ সালের ১ আগস্ট গোলাম রাব্বানীকে প্রথম ‘আসসালামু আলাইকুম, ভাই’ লিখে বার্তা পাঠান সাদিক কায়েম। সেই বার্তার কোনো উত্তর দেননি রাব্বানী। এরপর ৩ আগস্ট নিজেকে ‘ভার্সিটির ছোট ভাই’ পরিচয় দিয়ে পুনরায় সালাম দেন সাদিক। সর্বশেষ ৩১ আগস্ট হলের ছোট ভাই পরিচয় দিয়ে আবারও বার্তা পাঠালেও তৎকালীন প্রতাপশালী ছাত্রনেতা গোলাম রাব্বানীর পক্ষ থেকে কোনো প্রত্যুত্তর আসেনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের এই স্ক্রিনশটটি পোস্ট করে সাদিক কায়েমের বর্তমান অবস্থানের প্রশংসা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “জীবনে মানুষকে ইগনোর করবেন না। আজকে কোথায় গোলাম রাব্বানী আর কোথায় সাদিক কায়েম। রাব্বানীর কাছে বারবার পাত্তা না পাওয়া সাদিক ভাই আজকে জননন্দিত ছাত্রনেতা।” তিনি আরও যোগ করেন, যারা বর্তমানে পাত্তা না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন, তাদের জন্য সাদিক কায়েম একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হতে পারেন।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুখ খুলেছেন গোলাম রাব্বানীও। এক পোস্টের কমেন্টে তিনি ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “যেহেতু আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের ছোট ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়েছে, ফান্ডে রেখে আসা ৩ লাখ টাকাও খরচ করুক। আমি আর কোনো দাবি রাখলাম না।” তার এই মন্তব্যটি তৎকালীন ডাকসুর অর্থ কেলেঙ্কারি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এই স্ক্রিনশট ফাঁসের পর ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি তোলা হচ্ছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “সাদিক কায়েম গুপ্তকালীন সময়ে সুপ্ত থেকে ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছিল। রাব্বানী তাকে পাত্তা দেয়নি, হয়ত সে ঠিকই গুপ্ত কর্মীকে চিনতে পেরেছিল।”
একই সুরে ছাত্রলীগ কর্মী মিনহাজ হোসেন লিখেছেন, “আজ সাদিক কায়েমের গুপ্ত পরিচয় উন্মোচিত। আব্দুল কাদেররা তার ২০১৮ সালের ব্যর্থ মিশনের যতই প্রশংসা করুক, গুপ্ত চিরকাল গুপ্তই থেকে যাবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই স্ক্রিনশটটি মূলত দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার বিপরীতমুখী অবস্থানের প্রতিফলন। একদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতারা একে ধৈর্যের জয় হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ শিবির একে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বা কৌশলী রাজনৈতিক মিশন হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। তবে সাদিক কায়েমের শিবির পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর এই পুরনো বার্তাগুলো নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
