নিজস্ব প্রতিনিধি
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘আপসের চেয়ে বহিষ্কার অনেক সম্মানের’—এমন কঠোর অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক পোস্ট দিয়েছেন সম্প্রতি বহিষ্কৃত কামরুন নাহার কলি নামে এক নারী অ্যাথলেট (শ্যুটার)। একইসঙ্গে তিনি বর্তমান বাস্তবতায় দেশের ক্রীড়াঙ্গন থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
শুটিং ফেডারেশনের অনিয়ম ও যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রতিবাদ করলে ফেডারেশন কলিকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নায্য বিচার না পেয়ে কলি অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে নিতে প্রস্তুত হয়েছেন।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে কলি লিখেছেন, “আজীবন বহিষ্কৃত থাকতে রাজি, তারপরও একদিনের জন্যেও আপস করব না।” তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি (সাজ্জাদ) তাকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন। কলির ভাষ্যমতে, সাজ্জাদ তাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন যে সকল সচিব তার পক্ষে আছেন। তাই আপস না করলে এই বহিষ্কারাদেশ কক্ষনো উঠবে না।
এই নারী অ্যাথলেট ক্ষোভের সাথে জানান, তিনি এমন কলুষিত বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে ক্রীড়াঙ্গন ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত। কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি স্থগিত করে মন্ত্রণালয় নতুন কমিটি গঠন করলেও নির্ধারিত এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো রিপোর্ট জমা না দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, তদন্ত প্রক্রিয়াটি অযৌক্তিকভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তদন্ত কমিটির এক নারী সদস্য প্রকাশ্যে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সচিবরা যদি সত্যের পক্ষে থাকতেন, তবে এতদিনে সুষ্ঠু রিপোর্ট আসত।
দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর হতাশা প্রকাশ করে কলি বলেন, “বাংলাদেশে অন্যায়ের বিচার হয় না, বরং যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে তাদেরই বিচার হয় এবং ক্যারিয়ার ছেড়ে চলে যেতে হয়।”
ভবিষ্যৎ নারী অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি তার পোস্টে যোগ করেন, আজকের পর থেকে নারী ক্রীড়াবিদরা আরও বেশি নির্যাতিত হবেন। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাবেন না। কারণ প্রতিবাদীদের সরকারি দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হয় আর অভিযুক্তরা সসম্মানে ঘুরে বেড়ায়।
পোস্টের শেষে তিনি অত্যন্ত হতাশাজনক এক মন্তব্য করেন: “Female players will never rise their voice again. There is a full stop.” (নারী খেলোয়াড়রা আর কখনো প্রতিবাদ করবে না। এখানেই শেষ।)
জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট মহলের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছিলেন কলি। বিশেষ করে, প্রশিক্ষণের নামে অর্থ আত্মসাৎ ও খেলোয়াড়দের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ ও যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। কলির অভিযোগ, তিনি কেবল সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছিলেন বলেই তাকে এই শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
