মো আসাদুল আলম, জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি বহিরাগত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১২ মে) রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর বরাতে জানা যায়, ওই সময় তিনি ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করতে থাকে।
পরবর্তীতে পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তি রুমাল বা দড়িসদৃশ কিছু দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে টেনে পাশের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় কাছাকাছি থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল অতিক্রম করছিলেন। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে তারা দ্রুত এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
পরে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত অবস্থায় জঙ্গলের পাশে দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তখন তার স্যান্ডেল পায়ে ছিল না এবং পোশাক ও শরীরে মাটি লেগে ছিল।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরকে জানানো হলে প্রক্টোরিয়াল টিম ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।
ভুক্তভোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছেন এবং ফুটেজ বিশ্লেষণেও একজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করি। অভিযুক্তকে শনাক্তের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রক্টর বলেন, ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নিন্দনীয়। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়েও প্রশাসন কাজ করছে।
