নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভোট পড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করলেও পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। প্রবাসী ভোটার এবং দেশে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিবন্ধন ও ভোটদানের হার দুটো ক্ষেত্রেই প্রত্যাশার তুলনায় কম।
প্রবাসী ভোট: নিবন্ধিতদের ৩৪ শতাংশ ভোট দেননি
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশির সংখ্যা আনুমানিক দেড় কোটি থেকে এক কোটি ৫৫ লাখের মধ্যে। প্রথমবারের মতো তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হলেও নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৩ জন, যা মোট প্রবাসীর প্রায় ৫ শতাংশের সমান।
রোববার রাত পর্যন্ত ভোট জমা পড়েছে ৫ লাখ ৬ হাজার ২৪৭টি। অর্থাৎ নিবন্ধিত প্রবাসীদের প্রায় ৬৬ শতাংশ ভোট দিয়েছেন এবং প্রায় ৩৪ শতাংশ নিবন্ধন করেও ভোট দেননি।
মোট প্রবাসী জনসংখ্যার অনুপাতে হিসাব করলে দেখা যায়, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন মাত্র প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ শতাংশ প্রবাসী। ফলে প্রবাসী ভোটের অংশগ্রহণ কার্যত সীমিত পরিসরেই রয়েছে।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মীদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২৮ শতাংশ
এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। তাদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ জন—যা মোটের প্রায় ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৫৫ শতাংশ নির্বাচনকর্মী নিবন্ধনই করেননি।
নিবন্ধিতদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৭ জন। মোট নির্বাচনকর্মীর অনুপাতে হিসাব করলে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন প্রায় ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ।
নিবন্ধিতদের মধ্যেও প্রায় ৪০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত ভোট দেননি।
অতীত নির্বাচনের পরিসংখ্যান
বিগত নির্বাচনগুলোর তথ্য বলছে, অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৪২ শতাংশ।
২০১৮ সালের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮০ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে প্রায় ৪০ শতাংশ।
অন্যদিকে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ২০০১ সালে ৭৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
ভোটের হার নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর
ইসি সূত্র জানিয়েছে, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণের ওপর ভোটার উপস্থিতি নির্ভর করবে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ভোটের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। তবে সহিংসতা বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখতে পাচ্ছি। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, এ নির্বাচনে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভোট পড়বে।”
তবে প্রবাসী ভোটার ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত কর্মীদের পোস্টাল ব্যালটে সীমিত অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান ভোটার আস্থা ও অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
