যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে করোনা মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বরাদ্দ করা ত্রাণ তহবিল থেকে হাজার হাজার ডলার আত্মসাৎ করার ঘটনায় ৯ জন আসামি দোষ স্বীকার করেছেন। এদের মধ্যে ৮ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। আসামিরা ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে দোষ স্বীকার করেন এবং আদালত ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাদের ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার জরিমানা করে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে।
কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং ১৩ ফেব্রুয়ারি একটি যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন। আসামিদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হলেও ছবি দেওয়া হয়নি। তারা হলেন মাহবুব মালিক (৪১), তোফায়েল আহমেদ (৫০), ইউসুফ এমডি (৪৫), মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ (৬৮), জাকির চৌধুরী (৫৯), মোহাম্মদ খান (৪৯), তানভীর মিলন (৫৫), জুনেদ খান (৫৬) এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাদিম শেখ (৫৬)। এই ঘটনা বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং মহামারি সাহায্যের অপব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
তদন্তে দেখা গেছে, ২০২০ সালের জুন থেকে আসামিরা নিউইয়র্ক স্টেটের ‘এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় একাধিক ভুয়া ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে আবেদন করেছিল। আবেদনে তারা উল্লেখ করেছিল যে সরকারি তহবিল কর্মচারীদের বেতন, অফিস ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল ও সরঞ্জাম কেনার জন্য প্রয়োজন। কিন্তু তহবিল পাওয়ার পরপরই অধিকাংশ অর্থ তাদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। ব্যাংক রেকর্ড ও ট্যাক্স নথি পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে তহবিল পাওয়ার আগে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো ব্যবসায়িক কার্যকলাপ ছিল না। এই প্রতারণামূলক কার্যকলাপ মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতি অঙ্গরাজ্যের সহানুভূতি ও সাহায্যের অপব্যবহার ছিল।
নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেলের অফিস ২০২৪ সালের মে মাসে তদন্ত শুরু করে এবং মামলা কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসে হস্তান্তর করে। অভিযোগ জানার পর আসামিরা ২০২৫ সালের ৬-৯ মে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আত্মসমর্পণ করেন। এই ঘটনা করোনা তহবিলের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কঠোরতা প্রদর্শন করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাকির চৌধুরীকে কুইন্স কাউন্ট্রি ক্রিমিনাল কোর্ট ১.৫ লাখ ডলার জরিমানা করে। তিনি ইতিমধ্যে ৭৫ হাজার ডলার পরিশোধ করেছেন এবং ২৩ মার্চের মধ্যে বাকি পরিশোধ করবেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, “আমি ট্রায়ালে যেতে পারতাম, আমার অফিস-কর্মচারী সব আছে। কিন্তু তিন বছর সময় লাগত এবং বদনাম হতো বলে কোর্টের নির্দেশ মেনে টাকা দিচ্ছি। এটি সেটেলড হয়ে গেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক পার্টনার কুমিল্লার খোকন আশরাফ তার অফিসের নাম ব্যবহার করে অনুদান নিয়েছে এবং অর্ধেক টাকা নিয়ে গেছে।
মামলার আরেক আসামি মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ বলেন, “কোর্টের নির্দেশ পাওয়ামাত্র আমি প্রথম ৭০ হাজার ডলার দিয়েছি। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।” কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ বলেন, “মহামারির সংকটে ব্যবসায়ীদের জন্য তহবিল চুরি গুরুতর অপরাধ। দোষ স্বীকার করে তারা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।” নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং বলেন, “দুর্যোগকালীন তহবিল ব্যক্তিগত লাভে ব্যবহার জনস্বার্থের পরিপন্থী।”