বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে দেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংকট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরতে পারলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধার।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে অস্থিরতা, মব সহিংসতা ও নির্বিচার আটকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় কারাবন্দি এবং মানবিক পরিস্থিতি অবনতিশীল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে একটি গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকারের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতায় বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে, কর্মসংস্থানের গতি কমেছে এবং উন্নয়ন কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম, কৃষক ও শ্রমজীবীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করাকে তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখেন।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়-অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও চরমপন্থী সহিংসতা দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিএনপি ও তারেক রহমান প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন। তবে নেতৃত্বে জবাবদিহিতা, সরাসরি রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সহিংসতামুক্ত রাজনীতির ওপর জোর দেন। ভয়ভীতি বা চাপ সৃষ্টি করে রাজনীতি চালানোকে তিনি গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গেও তিনি প্রতিক্রিয়া জানান। ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক প্রতীক নিয়ে সংবেদনশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সবার।
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে তার বক্তব্য ছিল কূটনৈতিক ভারসাম্যপূর্ণ। তিনি মনে করেন, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও পারস্পরিক আস্থাই এই সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত।
নিজ দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ একটি তৃণমূলভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন। নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব গড়ে তোলা, সময়োপযোগী সাংগঠনিক সংস্কার এবং ডিজিটাল যুগের বাস্তবতায় অভিযোজন জরুরি। তবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা ও দলীয় নিষেধাজ্ঞা থাকলে স্বাভাবিক পুনর্গঠন সম্ভব নয় বলে তিনি মত দেন।
গত এক বছরের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দূর থেকে দেশের অবস্থা দেখা তার জন্য কষ্টের ছিল। তবু দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাহস তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার বিশ্বাস, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক আদর্শ মুছে ফেলা যায় না। শেষ পর্যন্ত জনগণই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে
তথ্য সুত্রঃ www.wionews.com
