ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ গণভোটের ফলাফলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) দুটি আসনের তথ্য সংশোধন করলেও নেত্রকোনা-৩, নেত্রকোনা-৪ ও নেত্রকোনা-৫ আসনে বিরাট অসামঞ্জস্য রয়ে গেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সংবাদ প্রকাশের পর ইসি রাতে সিরাজগঞ্জ-১ ও রাজশাহী-৪ আসনের ফল পরিবর্তন করে ‘হ্যাঁ’ ভোট ও শতাংশ বাড়িয়ে ‘না’ কমিয়েছে। কিন্তু নেত্রকোনার তিন আসনের তথ্য অপরিবর্তিত রেখেছে, যেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা মোট ভোটারের চেয়েও বেশি দেখানো হয়েছে। এতে গণভোটের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনা-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬ জন, কিন্তু ‘হ্যাঁ’-তে ভোট পড়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮টি—যা ভোটার সংখ্যার চেয়ে ৮০ হাজার বেশি। এই আসনে মোট কাস্ট ভোট দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৫৮ (৫৬.৬৬%)। একইভাবে নেত্রকোনা-৪ ও ৫ আসনেও তথ্যের এই অসঙ্গতি রয়েছে। এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত ফলাফলের সঙ্গে ইসির প্রকাশিত তথ্য মিলছে না। নেত্রকোনা-৩-এ রিটার্নিং কর্মকর্তার ফল অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫, ‘না’ ৬০ হাজার ৭৮৭, বাতিল ৪ হাজার ৫৬৬, মোট কাস্ট ২ লাখ ১ হাজার ৩৫৮ এবং বৈধ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭৯২। নেত্রকোনা-৪-এ ‘হ্যাঁ’ ৮২ হাজার ১২৫, ‘না’ ১ লাখ ২ হাজার ১১৩, বাতিল ২৭ হাজার ৯৭২, কাস্ট ২ লাখ ১২ হাজার ২১০ (বৈধ ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৮)। নেত্রকোনা-৫-এ ‘হ্যাঁ’ ১ লাখ ৩ হাজার ৬৭১, ‘না’ ৪৪ হাজার ২৭৩, বাতিল ২০ হাজার ৭২০, কাস্ট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৬৪ (বৈধ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৪)। এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে ইসির তথ্যগুলোর অসঙ্গতি প্রমাণ করছে।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেছেন, “তাড়াহুড়োয় মানবীয় ও করণিক ত্রুটি হয়েছে। সংশোধন করে সঠিক তথ্য দিয়েছি, আবার সংশোধন চলছে।” রাতে সিরাজগঞ্জ-১ ও রাজশাহী-৪-এ সংশোধন ঘটেছে—যেখানে রাজশাহী-৪-এ ২৪৪% কাস্টিং (৩.১৯ লাখ ভোটারে ৭.৮১ লাখ) এবং সিরাজগঞ্জ-১-এ ৭.৯% গণভোট সংশোধিত হয়েছে। কিন্তু নেত্রকোনার তিন আসনের ফল অপরিবর্তিত রেখে ইসি এখনো পুরোপুরি সমাধান দিতে পারেনি। এর ফলে জুলাই সনদ গণভোটের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে, বিশেষ করে যখন মোট ‘হ্যাঁ’ ৪ কোটি ৮০ লাখ এবং ‘না’ ২ কোটি ২৫ লাখ দেখানো হয়েছে ৭৪ লাখ বাতিল ভোটসহ।
পূর্বের রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, রাজশাহী-৪-এ জামায়াত প্রার্থী আবদুল বারী সরদার জিতেছেন যেখানে ‘না’ ৬ লাখ ১২ হাজার পেয়েছে। সিরাজগঞ্জ-১-এ বিএনপির সেলিম রেজা জয়ী। এই সংশোধন সত্ত্বেও নেত্রকোনার অসামঞ্জস্য গণভোটের সামগ্রিক নির্ভরযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলেছে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
