ইসলাম শফি
আজ শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার পরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের পর প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সংবাদ সম্মেলনে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের পর দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
সাংবাদিক ও টকশোর তারকা উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীন আমার পছন্দের তালিকার অন্যতম একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। তাঁর কাছে আমার ও জাতির প্রত্যাশা অনেক বেশি। আজ সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন করার জন্য দাঁড়ান। তাঁর প্রশ্ন করবার ধরন ও অভয় প্রার্থনার ভঙ্গি দেখে প্রথমে বিস্মিত হলাম। এ কোন খালেদ মুহিউদ্দীনকে দেখছি! পরে তাঁর অট্টহাসির সাথে প্রশ্নের শেষে যে লেজ তিনি জুড়ে দিলেন তা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলাম!
খালেদ মুহিউদ্দীন প্রশ্ন করেন ‘গত সরকার চলে যাওয়ার পর থেকে আপনি বলে আসছিলেন যে এই নির্বাচন সহজ হবে না। এখন নির্বাচন হয়ে গেলো। এই নির্বাচন সহজ ছিল কি না আপনার কাছে? এই প্রশ্নের সঙ্গে একটু লেজ, ২০০-এর বেশি আসন পেতে আপনাকে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হলো কি না?’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি জানান দিতে একটা কিছু বলতেই হবে! বা ভাইরাল হতে হবে(!) প্রশ্নের কোনো মেরিট নেই, নেই গভীরতা! তাঁর এই অপেশাদার হীনদশা দেখে লজ্জিত হলাম! এই-কী তাঁর এতোদিনের অর্জিত পেশাদারিত্বের নমুনা!
জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অতি সংক্ষেপে বলেন— ‘জনগণকে কনভিন্স করাটাই আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ছিল জনগণকে পক্ষে নিয়ে আসা। সেখানে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি।’
আমার মনে প্রশ্ন আসলো বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এমন লঘু মানসিকতার বৃত্ত থেকে ‘সাংবাদিকতা পেশা’ কেনো বেরিয়ে আসতে পাচ্ছে না? বর্তমানে প্রবাসী একটি অনলাইন ভিত্তিক গণমাধ্যম ‘ঠিকানা’য় কাজ করেন তিনি। নির্বাচন কভার করার জন্য সম্প্রতি তিনি সাত সমুদ্র তেরো নদী ও বহুপথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ সম্মেলনে অভয়ের অনুমতি নিয়ে এমন একটি বিতর্কিত প্রশ্ন করার জন্য! ভালো করে অনুসন্ধান করে দেখা দরকার এর পেছনে গভীর দুরভিসন্ধি রয়েছে কী-না! প্রশিক্ষণবিহীন নব্য-মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট বা আনকোরা মোবাইল জার্নালিজম (মোজো) প্রতিনিধির সঙ্গে কোনো ফারাক নেই তাঁর; অথবা তুলনামূলক পার্থক্য নির্ণয়ের চেষ্টা করাটাও মনে হয় সঙ্গত নয়! তাঁর প্রশ্নের উদ্দেশ্য, অট্টহাসি ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে হতাশ হয়েছে দর্শক ও পেশাদার সাংবাদকর্মীবৃন্দ। নেট দুনিয়ায় এই প্রসঙ্গ নিয়ে বিতর্ক চলছে— কেউ কেউ লিখেছেন সংবাদ সম্মেলনের নয়াতেল খালেদ মহিউদ্দিন! বিগত সময়ে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তৈলসাংবাদিকতা দেখতে দেখতে সকলে অতিষ্ঠ! এখন আমাদের ভীষণ প্রয়োজন তেলমুক্ত সাংবাদিকতার।
